...|...|...

শিক্ষা

‘ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ’-নিয়োগ থেকে বাদ মিশন আচার্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৬ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫২
Shares
‘ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ’-নিয়োগ থেকে বাদ মিশন আচার্য

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তবে স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে বসতভিটা না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মিশন আচার্য ইবির ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। তার দাবি, জন্মের পর থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করলেও নিজের নামে বসতভিটা না থাকায় চাকরির নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মিশন জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। বহু বছর আগে তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বাবার ঠিকানাও তার জন্য কার্যত অনুপলব্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি মায়ের সাথে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং সেখানেই জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অপরজন তিনি হওয়ায় নিয়োগপত্র পাননি। উপজেলা পর্যায়ে তার অবস্থান ছিল ১৭তম।

মিশন আচার্য বলেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে-এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের বাড়ির এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। নিয়োগের পুলিশ তদন্তের সময় তিনি ওই জমির দলিলও জমা দেন। তবে ওই জমিতে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং কখনো সেখানে বসবাসও করেননি।

তিনি বলেন, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে তাকে জানানো হয়। সে অনুযায়ী তিনি দলিল জমা দেন। পরে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণ দেখিয়ে তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিশন আচার্য বলেন, ‘আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে; কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি। এর থেকে কষ্টের আর কী হতে পারে? নতুন করে পড়াশোনা করে অন্য কিছু করার বয়সও প্রায় শেষের দিকে।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি সমাধান হবে।’