সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সহায়তা চাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলো, যার জন্য এখন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত বিক্রিটি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করা প্রধান এক অ-ন্যাটো মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যগুলোকে সমর্থন করবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত এই যুদ্ধবিমানগুলো বিক্রির ফলে অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যের কোনো পরিবর্তন হবে না, যা ইসরায়েলকে তার সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিপক্ষগুলোর তুলনায় সামরিকভাবে এগিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল জাজিরার তথ্যমতে, ইয়েমেনের মারিব শহরে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় হুথিরা একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানানোর পরই এই ঘোষণা এল। হুথি যোদ্ধারা ওই শহরের মাটিতে পোড়া ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যা সৌদি আরবের চিহ্নযুক্ত মার্কিন তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অবশেষ বলে মনে করা হচ্ছে। হুথিদের দাবি, ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল বা ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমেই বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় একটি নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে, ইয়েমেনের আকাশে সৌদি সামরিক বাহিনী আপেক্ষিক আকাশ আধিপত্য ভোগ করে আসছিল এবং প্রতিবেশী দেশটিতে নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করত।
সৌদি আরব হুথি বাহিনীর সাথে দেশটির সংঘাতে ওয়াশিংটনকে আরও সরাসরি ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়ে আসলেও তা সফল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি, সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার এই সংঘাতে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
এদিকে, এই যুদ্ধবিমান বিক্রির ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির শঙ্কা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এ সপ্তাহে জানিয়েছে যে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রিয়াদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বেইজিং এফ-৩৫ প্রযুক্তির নাগাল পেতে পারে।
হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য ও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সম্প্রদায় যখন এই মর্মে সতর্ক করছে যে এটি আমেরিকান সামরিক প্রযুক্তির রত্নভাণ্ডারকে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারে, তখন এই চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পারস্পরিক সুরক্ষার উপায় খুঁজে নেওয়ার অংশ হিসেবে গত মাসে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে ‘মক্কা চুক্তি’ নামক একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে এফ-৩৫ কেনার চেষ্টা চালিয়ে আসলেও, অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে এই যুদ্ধবিমানের অধিকারী ইসরায়েলের কর্মকর্তারা রিয়াদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তাগিদ থাকার পরও তা বিক্রির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। অন্যদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বহুজাতিক উন্নয়নে অংশ নেওয়া একটি ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক, রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের পর ২০১৯ সাল থেকে এই যুদ্ধবিমান পাওয়া থেকে নিষিদ্ধ রয়েছে।


