...|...|...

বিশ্ব

সৌদিতে ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রচার, নেটদুনিয়ায় চলছে বিতর্ক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৭
Shares
সৌদিতে ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রচার, নেটদুনিয়ায় চলছে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে বলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এর প্রচার ও প্রদর্শন ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সড়ক ও সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটির পোস্টার এবং বিলবোর্ড দেখা যাওয়ার দাবি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ বিষয়টিকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করছেন, আবার কেউ দেখছেন সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল বিনোদননীতির অংশ হিসেবে।

ভারতীয় নির্মাতা নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর। সীতার ভূমিকায় রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতীয় তারকা যশ। হিন্দু ধর্মের মহাকাব্য রামায়ণ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির প্রথম পর্ব গত ৫ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে।

সৌদি আরবের সিনেমা প্রদর্শনী প্রতিষ্ঠান ভক্স সিনেমাসের ওয়েবসাইটেও চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন ও টিকিট বুকিংয়ের তথ্য রয়েছে। তবে রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপনের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজ ভারতী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,  ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার দেশ সৌদি আরবে হিন্দু ধর্মের মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রচার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সমালোচকদের একাংশের মতে, সৌদি আরবের মতো ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল দেশে এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রকাশ্য প্রচার স্থানীয় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কেউ কেউ একে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব হিসেবেও দেখছেন।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বিনোদন খাতের পর্যবেক্ষকদের ভিন্ন মত রয়েছে। তাদের মতে, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে ভারতীয় চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়ার বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা উচিত।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় দেশটির বিনোদন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আন্তর্জাতিক বিনোদন ব্যবসার প্রসারের ফলে বিদেশি সিনেমার জন্যও নতুন বাজার তৈরি হয়েছে।

তবে সৌদি আরবে রামায়ণ নিয়ে আলোচনা এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে দেশটির স্কুলের পাঠ্যক্রমে রামায়ণ ও মহাভারত অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুসন্ধানে দাবিটি ভিত্তিহীন বলে উঠে আসে। সৌদি আরবের জাতীয় পাঠ্যক্রমে এই দুই মহাকাব্য অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

এবারের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় বাজেটের ভারতীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রদর্শন। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সব দাবি এবং বিতর্কের ব্যাপকতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরবের বিনোদন খাতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘রামায়ণ’-এর প্রদর্শন দেশটির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারের বিস্তারের একটি উদাহরণ। মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকদের মধ্যে চলচ্চিত্রটি কেমন সাড়া ফেলে, সেটিও এখন আগ্রহের বিষয়।