...|...|...

বিশ্ব

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের বড় জয়, রেকর্ড ভেঙে কত আসন পেলেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৯
Shares
রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের বড় জয়, রেকর্ড ভেঙে কত আসন পেলেন

ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ বা ক্রেমলিনের সমালোচক দলগুলোকে ছাড়াই অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অনুষ্ঠিত তিন দিনের সংসদ নির্বাচনে পুতিনের ‘সংযুক্ত রাশিয়া’ দল ডুমা বা পার্লামেন্টে রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে সুপার মেজরিটি অর্জন করেছে। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কতৃপক্ষ এই ফলাফল ঘোষণা করে। খবর এএফপির।

নির্বাচনী প্রধান ইলা পামফিলোভার দেওয়া প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসা সংযুক্ত রাশিয়া দল ডুমা’র ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫৫টিতে জয়লাভ করেছে। এই ফলাফল পুতিনের দলকে একটি বর্ধিত সুপার মেজরিটি এনে দিয়েছে এবং তাদের পূর্বের ৩৪৩টি আসনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই সুপার মেজরিটির অর্থ হলো—প্রয়োজন সাপেক্ষে তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, ২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এই প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া এই সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, ১৯৯৯ সালের নিউ ইয়ার্স ইভ থেকে ক্ষমতায় থাকা পুতিনের চারপাশে রুশ নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এই সংঘাতের ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এ বছর রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। মস্কো তাদের সামরিক অভিযানের সমালোচনা নিষিদ্ধ করেছে এবং যুদ্ধের অবসান চেয়েছিল এমন একমাত্র দলটিকেও নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই সূচকগুলো অবশ্যই রাষ্ট্রপ্রধানের চারপাশে রুশ সমাজের ভেতরের সর্বোচ্চ স্তরের সংহতিকেই নির্দেশ করে।

পুতিনের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সংযুক্ত রাশিয়া যে জয়ী হবে, তা নিয়ে রাশিয়ায় খুব কম লোকেই সন্দেহ পোষণ করেছিল। পুতিন ইউক্রেনে সেনাসদস্যদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার জন্য রুশ নাগরিকদের উৎসাহিত করেছিলেন এবং মস্কো অধিকৃত ইউক্রেনেও ভোটগ্রহণের আয়োজন করেছিল।

পামফিলোবা জানান, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ শতাংশের বেশি। তিনি রাশিয়ার ওপর তথাকথিত মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার জন্য রুশ নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান দেশটির সাথে পশ্চিমের সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে। নির্বাচনের শেষ দিন রবিবার কিয়েভ মস্কোতে যুদ্ধের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালায়, যাতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

মস্কো প্রেস কনফারেন্সে পামফিলোবা বলেন, “চরম পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা এই নির্বাচনগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফল হয়েছি। এছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করার জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। এই নির্বাচনী ফলাফল পুতিনের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনেকে রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক বাহিনীতে সেনা সংগ্রহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পুতিন বিষয়টি অস্বীকার করলেও কিয়েভ অভিযোগ করেছে যে মস্কো আগামী সপ্তাহগুলোতে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর দল ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন লাভ করেছে।

কিছু অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধানদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ায় লোহমানব হিসেবে পরিচিত রামজান কাদিরভ ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। চেচনিয়ায় কাদিরভের বিরোধিতা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত। পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হয় নির্বাসনে, না হয় কারাগারে অথবা মৃত—যেমন তার প্রধান বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি, যিনি ২০২৪ সালে একটি আর্কটিক কারাগারে মারা যান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস রাশিয়ার এই তথাকথিত নির্বাচনকে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্রেমলিন ভিন্নমত দমন করেছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের বিরোধিতাকারী একমাত্র নিবন্ধিত দলটিকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দূরে রেখেছে। রাশিয়ায় এখন কেবল গণতন্ত্রের মোড়কটাই অবশিষ্ট রয়েছে।