...|...|...

বিশ্ব

সরকার হটাতে ইথিওপিয়ায় ৭ সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট গঠন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২১
Shares
সরকার হটাতে ইথিওপিয়ায় ৭ সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট গঠন

ছবি: সংগৃহীত

২০২০-২০২২ সালের গৃহযুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা দীর্ঘদিনের শত্রুরাসহ ইথিওপিয়ার সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

‘ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সার্ভাইভাল’-এর এই ঘোষণার মাধ্যমে উত্তর তিগ্রে থেকে শুরু করে দক্ষিণের সোমালি অঞ্চল পর্যন্ত ভৌগোলিক ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় গোষ্ঠীগুলো এক হলো। যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই ভূখণ্ড ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনও পরস্পরের সাথে বিরোধে লিপ্ত রয়েছে।

আবি আহমেদ ও ফেডারেল সরকারের কোনো মুখপাত্র এই বিষয়ে অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি। তবে গত মাসে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য কোনো জোট গঠনের খবরের পর আবির একজন উপদেষ্টা বলেছিলেন যে এ ধরনের কোনো জোট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা ফেডারেল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘোষিত এই নতুন জোটে রয়েছে ‘তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’ এবং আমহারা অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্ট’।

২০২০-২০২২ সালের তিগ্রে যুদ্ধের সময় ফানো ফেডারেল সরকারের সমর্থনে টিপিএলএফ-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। ওই যুদ্ধে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং সেখানে জাতিগতভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে আমহরায় সংঘটিত এক সংঘাতে ফানো নিজেই ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওঠে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার এবং অঞ্চলগুলোকে প্রান্তিক করার অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে সরকার বলছে যে তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভেদ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো সমাধানের জন্য একটি জাতীয় সংলাপ শুরু করেছে।

তিগ্রে টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত এবং ফানো নেতা জেমনে কাসিয়ে-র পড়ে শোনানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ইথিওপিয়ার জনগণের অস্তিত্বের সাথে জড়িত জনগণের বাহিনী, এই শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে রয়েছে। ওরোমিয়া, আফার এবং বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলের গোষ্ঠীগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত এই জোটের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন ফেডারেল এবং তিগ্রে বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

উল্লেখ্য, তিগ্রে যুদ্ধ বন্ধের ২০২২ সালের শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত মে মাসে টিপিএলএফ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের হাতে নেয়। ফেডারেল সরকার চুক্তিটি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলার পর তারা এই পদক্ষেপ নেয়। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ইথিওপীয় সেনাবাহিনী তিগ্রে বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ফেডারেল সরকার এই কথিত হামলাগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে প্রায় ৩০০ তিগ্রে যোদ্ধা তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ইথিওপিয়া তার প্রতিবেশী ও ঐতিহাসিক শত্রু ইরিত্রিয়াকে টিপিএলএফ ও ফানোসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যদিও ইরিত্রিয়া তা অস্বীকার করেছে।