হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় তিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও।
বিবিসির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, গত শনিবার তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে যে, আমাদের প্রথম সংশোধনী বা ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের অধিকার রক্ষা করতে এবং সরকার প্রেসের প্রতিবেদন কী হবে তা নির্ধারণ করে না—এই নীতিকে রক্ষা করতে তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এর কিছুক্ষণ পর ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন যে হোয়াইট হাউস মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর কোনো আক্রমণ চালাচ্ছে না এবং তিনি কেবল ফেক নিউজ বা ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকার কর্তৃক সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করে—একটি ভাষা যা আদালত ঐতিহ্যগতভাবে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছে যাতে সরকার প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে না পারে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাওয়ের যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো নোটিশ বা প্রক্রিয়া ছাড়াই হোয়াইট হাউস আমাদের সাংবাদিকদের প্রেস ক্রডেনশিয়াল বা শংসাপত্র বাতিল করেছে কারণ তারা আমাদের প্রতিবেদনের ওপর আপত্তি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চ্যালেঞ্জহীনভাবে এটি ছেড়ে দিলে তা প্রেসের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।
বিবিসি নিউজ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার সময় ট্রাম্প এই পদক্ষেপের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেননি, তবে পরবর্তীতে তিনি জানান যে এটি মূলত গত কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত খবরের ফল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে এই তালিকায় অন্যরাও যোগ দিতে পারে। পরবর্তীতে এক সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ফেক নিউজের দিক থেকে আরও কেউ আসবে? ঠিক আছে, আপনারা জানেন যে নিউ ইয়র্ক টাইমস হলো ফেক নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট হলো ফেক নিউজ।
উল্লেখ্য, সিএনএন—যা লাইভ টেলিভিশনের জন্য হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে থাকা মাত্র পাঁচটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি—মূলত সোম ও মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্পের সফর কভার করার কথা ছিল। তবে পুলের সেই স্লটটি খালি রয়েছে এবং এর পরিবর্তে কট্টর রক্ষণশীল টিভি আউটলেট ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে এই সফরের সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক ক্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস কভার করার সময় অর্থ ও স্থান সাশ্রয়ের জন্য অন্যান্য আউটলেটের সাথে উপাদান শেয়ার করে প্রেস পুল গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে তারা প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে, যা গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসের করসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একই মাসে প্রশাসন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর সাংবাদিক এবং চিত্রসাংবাদিকদের ওভাল অফিস বা এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত প্রবেশাধিকারের স্থানগুলো থেকে নিষিদ্ধ করে, কারণ ওই আউটলেটটি ‘গালফ অফ আমেরিকা’-র পরিবর্তে ‘গালফ অফ মেক্সিকো’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিল। এর পরপরই এপি দ্রুত মামলা দায়ের করে এবং মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমগুলোর বিষয়ে প্রায়ই সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করে আসছেন এবং তার প্রশাসন নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বিবিসি সহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই মামলাগুলোর কিছুসংখ্যক বহু মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আইনি লড়াই এখনও চলমান রয়েছে।

