...|...|...

লাইফস্টাইল

মাত্র ১০ সেকেন্ডে হেঁচকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:২৮ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:৪৩
Shares
মাত্র ১০ সেকেন্ডে হেঁচকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়

ছবি: এআই জেনারেটেড

খাওয়ার মাঝখানে হঠাৎ হেঁচকি উঠলে কেমন বিরক্ত লাগে, সেটা যার হয়েছে তিনিই বোঝেন। একটার পর একটা হেঁচকি উঠতেই থাকে, গলার ভেতরটা কেমন যেন অস্বস্তিতে ভরে যায়।

আশপাশের মানুষ তখন প্রথমেই বলে উঠে -‘যাও, পানি খেয়ে এসো।’ কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এক গ্লাস, দুই গ্লাস পানি খেয়েও হেঁচকি থামার নামগন্ধ নেই। এমন পরিস্থিতিতে পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

তবে মজার খবর হলো, হেঁচকি তাড়ানোর জন্য কোনও ওষুধ বা ডাক্তারের কাছে দৌড়ানোর দরকার নেই। রান্নাঘরে থাকা একটি অতি সাধারণ জিনিস দিয়েই মাত্র ১০ সেকেন্ডে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হেঁচকি আসলে কেন ওঠে

হেঁচকির পেছনের কারণটা বুঝতে হলে আগে জানা দরকার আমাদের শরীরের ভেতরে কী ঘটছে। বুকের ঠিক নিচে থাকে ‘ডায়াফ্রাম’ নামের একটি বিশেষ পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

কোনও কারণে হঠাৎ এই পেশি সংকুচিত হয়ে গেলে ফুসফুসে দ্রুত বাতাস প্রবেশ করে, আর তখনই ভোকাল কর্ড আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়ে সেই পরিচিত ‘হেঁচ’ শব্দ তৈরি হয়।

এই গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের একটি বিশেষ স্নায়ু-যার নাম 'ভেগাস নার্ভ' (Vagus Nerve)। মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে পাকস্থলি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্নায়ুটি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাহলে সমাধান কী

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ভেগাস নার্ভকে সামান্য ‘চমকে’ দিতে পারলেই হেঁচকি নিমেষে বন্ধ হয়ে যায়। আর এজন্য দরকার শুধু এক চিমটি চিনি অথবা এক টুকরো মিছরি- যা জিভের নিচে রাখতে হবে।

জিভের নিচে মিষ্টি কিছু রাখলে মুখের ভেতরে তৈরি হওয়া মিষ্টি স্বাদের অনুভূতি সরাসরি সংকেত পাঠায় ভেগাস নার্ভে। ফলে মস্তিষ্ক হেঁচকির কথা ভুলে গিয়ে নতুন এই মিষ্টি স্বাদের সংকেত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ডাইভারশন’ বা ‘রিফ্লেক্স রিসেট’-অর্থাৎ মস্তিষ্কের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনা।

এটা কি শুধুই ঘরোয়া উপায়, নাকি প্রমাণিত

এটি শুধু শুধুই কোনো ঘরোয়া উপায় নয় -এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমর্থন।

১৯৭১ সালে চিকিৎসক এডগার এঙ্গেলম্যান এই বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ। সেই গবেষণাতেই উঠে আসে, সামান্য চিনি বা মিষ্টিজাতীয় কিছু জিভের নিচে রাখলে ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতায় পরিবর্তন আসে, যার ফলে ডায়াফ্রামের অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন থেমে যায় নিমেষেই।

কীভাবে প্রয়োগ করবেন এই উপায়

পরের বার হেঁচকি উঠলে এবং পানি খেয়ে কাজ না হলে, সরাসরি রান্নাঘরে চলে যান। তারপর-

  • এক চিমটি চিনি নিন (বা এক টুকরো মিছরি)
  • সেটি জিভের নিচে রাখুন
  • পানি দিয়ে গিলে ফেলবেন না, বরং চিনিটাকে আস্তে আস্তে মুখের মধ্যে গলতে দিন
  • ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড শান্ত হয়ে বসে থাকুন

এইটুকু করলেই দেখবেন, কোনও রকম  সমস্যা ছাড়াই আপনার হেঁচকি একেবারে গায়েব হয়ে গেছে।

মনে রাখবেন

হেঁচকি ওঠা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার হলেও তা যে বিরক্তিকর, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বারবার পানি খেয়েও যখন কাজ হয় না, তখন এই সহজ, ঘরোয়া ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিটি মনে রাখলে পরবর্তীতে খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যাবে।

ওষুধ বা কোনও জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই, রান্নাঘরের সাধারণ চিনি দিয়েই মিলতে পারে দ্রুত স্বস্তি।