বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভাতের জায়গা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভাত রান্না করা সহজ মনে হলেও সামান্য কিছু ভুলের কারণে ভাত কখনো অতিরিক্ত নরম, কখনো আঠালো আবার কখনো আধা সেদ্ধ হয়ে যেতে পারে। ঝরঝরে ও ভালোভাবে সেদ্ধ ভাত পেতে রান্নার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
১. চাল ঠিকভাবে না ধোয়া
রান্নার আগে চাল ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। চাল না ধুলে এর গায়ে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ ভাতকে আঠালো করে ফেলতে পারে। তাই পানি তুলনামূলক পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কয়েকবার চাল ধুয়ে নেওয়া ভালো। এতে রান্নার পর ভাতের দানা আলাদা ও ঝরঝরে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
২. চাল ও পানির পরিমাণে ভুল করা
ভাতের মান অনেকটাই নির্ভর করে চালের সাথে কতটা পানি ব্যবহার করছেন তার ওপর। এক ধরনের চালের জন্য যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন, অন্য ধরনের চালের ক্ষেত্রে তা একই নাও হতে পারে। পানি কম হলে চাল শক্ত বা আধা সেদ্ধ থাকতে পারে, আবার বেশি হলে ভাত অতিরিক্ত নরম হয়ে যেতে পারে। তাই যে চাল রান্না করছেন, সেটির উপযোগী পানি ব্যবহারের অনুপাত জানা প্রয়োজন।
৩. সব ধরনের চাল একইভাবে রান্না করা
সাদা চাল ও লাল চালের রান্নার পদ্ধতি এক নয়। লাল চালের বাইরের স্তর তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় এটি সেদ্ধ হতে বেশি সময় নেয় এবং সাধারণ সাদা চালের চেয়ে বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দুই ধরনের চাল একই সময় ও একই পরিমাণ পানিতে রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
৪. শুরু থেকেই বেশি আঁচে রাখা
তাড়াতাড়ি ভাত রান্না করার জন্য অনেকে পুরো সময় চুলার আঁচ বেশি রাখেন। এতে বরং ভাত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পানি দ্রুত শুকিয়ে গিয়ে চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়ার আগেই হাঁড়ির নিচে লেগে যেতে পারে। তাই পানি ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে চাল সেদ্ধ করা ভালো।
৫. রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঢাকনা খুলে ফেলা
ভাত রান্না হয়ে গেলেই সাথে সাথে পরিবেশন না করে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখা ভালো। চুলা বন্ধ করার পরও হাঁড়ির ভেতরের বাষ্প ভাতের দানাগুলোকে আরও কিছুটা সেদ্ধ হতে সাহায্য করে। সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিট ঢেকে রাখলে ভাতের গঠন আরও সুন্দর হয় এবং দানাগুলো তুলনামূলক ঝরঝরে থাকে।
ভাত রান্নার এই ছোট বিষয়গুলো মেনে চললে প্রতিদিনের সাধারণ ভাতও আরও সুন্দরভাবে রান্না করা সম্ভব। বিশেষ করে চালের ধরন অনুযায়ী পানি ও রান্নার সময় ঠিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



