...|...|...

বিশ্ব

ইরানের হামলায়

বাহরাইনে আটকে পড়া মার্কিন সেনাদের পরিবার শোনালেন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৬ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:০৮
Shares
বাহরাইনে আটকে পড়া মার্কিন সেনাদের পরিবার শোনালেন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে তখন রাত। হঠাৎ আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ছুটে চলা, চারদিকে বিস্ফোরণের শব্দ। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ঘরবন্দি মার্কিন সামরিক পরিবারের সদস্যরা। এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই এমন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। কেউ কেউ নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে অপেক্ষা করেছেন এক সপ্তাহেরও বেশি সময়।

সিবিএস নিউজের সঙ্গে কথা বলা এসব পরিবারের সদস্যরা জানান, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শব্দে তাদের রাতের ঘুম ভেঙে যেত। এক সামরিক কর্মকর্তার স্ত্রী বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দে ঘুম ভাঙত। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও কানে আসত সেই শব্দ।’

যুদ্ধের প্রথম দিনেই বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য সদর দফতর লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। সে সময় ঘাঁটির আশপাশে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক পরিবার অবস্থান করছিল। হামলার আশঙ্কায় ঘাঁটির কয়েকটি ভবন খালি করা হলেও এতটা ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত ছিল না বলে জানান এক কর্মকর্তা।

এক নারী জানান, তিনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধোঁয়ার রেখা দেখতে পেয়েছেন। আরেকজন বলেন, হামলার সময় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পাল্টা হামলা বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি সিবিএস নিউজ।

হামলায় কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত না হলেও বাহরাইনের নৌঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাওয়ের ভাষায়, ইরানের পাল্টা হামলায় ঘাঁটিটি ‘মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত’ হয়েছিল।

এরপর শুরু হয় সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনকে বাহরাইন থেকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরও স্বস্তি ফেরেনি অনেক পরিবারের জীবনে।

অনেক পরিবারকে একই সঙ্গে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্রে দুটি বাসস্থানের খরচ বহন করতে হচ্ছে। এক সামরিক সদস্যের জীবনসঙ্গী জানান, তাদের জমানো সব অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এমনকি সন্তানদের কলেজশিক্ষার জন্য জমানো অর্থও খরচ করতে হচ্ছে।

বাহরাইনের ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়েছে সমুদ্রে থাকা মার্কিন নাবিকদের ওপরও। রসদ সরবরাহের পথ পরিবর্তন করতে হওয়ায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীতে খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছিল। কিছু রসদ ভারত মহাসাগরের প্রায় ২ হাজার ২০০ মাইল দূরের দিয়েগো গার্সিয়া হয়ে পাঠাতে হয়েছে।

এদিকে, বাহরাইনে আগের মতো বড় পরিসরে কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানিয়েছেন, খুব শিগগির সেখানে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যের কথায়, ‘পরিস্থিতি যে এত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা কেউ ভাবেনি।’