সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশেষ সংস্করণ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এর ফলে দপ্তরের প্রায় ৩০ লাখ কর্মী নিরাপদ পরিবেশে বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক কাজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ ‘চ্যাটজিপিটি মিল’ এবং গ্রকের ‘গ্রক ফর গভর্নমেন্ট’। নিরাপত্তা ও সরকারি কাজের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব সংস্করণকে পেন্টাগনের সুরক্ষিত এআই ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ কর্মীর মধ্যে ১৭ লাখের বেশি স্বতন্ত্র ব্যবহারকারী এই এআই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন।
চ্যাটজিপিটি মিল মূলত দাফতরিক ও প্রশাসনিক কাজকে দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন নথি তৈরি ও সম্পাদনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কাজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব এআই সহকারী তৈরির মতো কাজ করা সম্ভব হবে। ফলে প্রতিদিনের সময়সাপেক্ষ কিছু কাজ কম সময়ে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বাজার বিশ্লেষণের মতো কাজে গ্রক ফর গভর্নমেন্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতেও এআই মডেলগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে পেন্টাগনের নতুন এআই ব্যবস্থায় অ্যানথ্রপিকের জনপ্রিয় এআই মডেল ক্লড যুক্ত করা হয়নি। পেন্টাগন ও অ্যানথ্রপিকের মধ্যে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা ও নীতিমালা নিয়ে বিরোধের পর প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পরই ক্লডকে এই ব্যবস্থার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত আসে।
এআই সক্ষমতা আরও বাড়াতে পেন্টাগন একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথেও চুক্তি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও রিফ্লেকশন এআই। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা দফতরের বিভিন্ন স্তরে এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহারকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপদ পরিবেশে কর্মীদের হাতে এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়ে দাফতরিক কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।


