দ্রুত খাবার তৈরি ও শ্রমের খরচ কমাতে রেস্টুরেন্টে রোবট ব্যবহারের চেষ্টা চলছে অনেক দিন ধরে। পিজ্জা তৈরিতেও এসেছে নানা ধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। তবে একাধিক প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে-রোবট দিয়ে কি সত্যিই সফলভাবে পিজ্জা বানানো সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেলের মটো পিজ্জা রেস্তোরাঁয় পিজ্জা তৈরিতে দুটি রোবট ব্যবহার করা হতো। কিন্তু রোবট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘পিকনিক’ ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পর যন্ত্রগুলোর কারিগরি সহায়তাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার খরচ করে কেনা রোবট দুটি নিয়ে বিপাকে পড়েন রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লি কিনডেল।
কিনডেলের মতে, রোবটে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নির্মাতার সহায়তা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিকনিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ না থাকায় ভবিষ্যতে রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার বিষয়ে তিনি নতুন করে ভাবছেন। জুমে, পাজ্জি ও বাসিল স্ট্রিটের মতো আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও পিজ্জা তৈরির রোবট নিয়ে কাজ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের বেশ কয়েকটি শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাংক অব আমেরিকার রেস্তোরাঁ বিশ্লেষক সারা সেনাতোর বলেন, খাবার তৈরিতে রোবট ব্যবহারের প্রত্যাশিত সাফল্যের উদাহরণ এখনো খুব বেশি নেই। অনেক সময় রোবট উপকরণ সঠিকভাবে দিতে পারে না, যেখানে দক্ষ কর্মী একই কাজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করতে পারেন।
তারপরও পরিকল্পনা থেকে সরে যাননি কিনডেল। এবার নিজেই নতুন একটি পিজ্জা তৈরির যন্ত্র বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। যন্ত্রটি অনেকটা ত্রিমাত্রিক মুদ্রণযন্ত্রের মতো কাজ করবে এবং চৌকো আকৃতির পিজ্জা তৈরি করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
রোবট ব্যবহারে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও কিনডেলের অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। সিয়াটেলের টি-মোবাইল পার্কে রোবট ব্যবহারের পর পিজ্জা তৈরির কাজে প্রায় ১০ জনের বদলে দুজন কর্মী প্রয়োজন হয়েছিল। অন্য কর্মীদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ ও প্রচারের মতো কাজে যুক্ত করা হয়।
পিজ্জা তৈরিতে গতি বাড়াতেও রোবটের সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডার প্রতিষ্ঠান অ্যাপেট্রনিক্স যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় পিজ্জা তৈরির যন্ত্র বসিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে প্রতি মিনিটে একটি পিজ্জা তৈরি করা। বর্তমানে রুটিতে সস দিতে প্রায় ৯ দশমিক ৫ সেকেন্ড সময় লাগলেও সেটি কমিয়ে দেড় সেকেন্ডে আনার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে, পিজ্জা তৈরির রোবট এখনো নানা প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাতে পারলে ভবিষ্যতে রোবট দিয়ে পিজ্জা তৈরির ধারণা সফল হতে পারে।



