...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৩৫
Shares
ঘরে বসেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন দাফতরিক ও আর্থিক প্রয়োজনে অনেকেই ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট নিবন্ধন করেন। তবে সময়ের সাথে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে অনেকে এটি বাতিল করতে চান। কিন্তু টিআইএন নিবন্ধন বাতিলের নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়। তবে শুধু টিআইএন আর প্রয়োজন নেই কিংবা আয় করযোগ্য সীমার নিচে-এমন কারণেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন বাতিল হয় না। আবেদন করার আগে নিজের কর-সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা ও প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

টিআইএন কী, কেন প্রয়োজন?

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতাকে শনাক্ত করার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যাংকিং কার্যক্রম, ব্যবসা পরিচালনা, ভিসার আবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দাফতরিক কাজে টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে। তবে টিআইএন নিবন্ধিত থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়কর দিতে হবে, এমন নয়। করদাতার আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করের পরিমাণ এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয়।

যেসব কারণে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী টিআইএন নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন-

১. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না থাকলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। তবে ব্যবসার অবসান-সংক্রান্ত কর ও অন্যান্য দায় নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

২. একাধিক টিআইএন থাকলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন নিবন্ধিত হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে অতিরিক্ত নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

৩. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৪. করযোগ্য আয় না থাকলে: আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য সীমার নিচে নেমে আসার কারণে কেউ টিআইএন বাতিল করতে চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও শর্ত যাচাই করতে হবে। শুধু করযোগ্য আয় না থাকলেই টিআইএন বাতিলের অধিকার তৈরি হয় না।

৫. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: বিদেশে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের দেশে কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা ও টিআইএন রাখার প্রয়োজনীয়তা না থাকলে তার পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেদন বিবেচিত হতে পারে।

৬. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো টিআইএনধারী মারা গেলে তার নিবন্ধন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধিকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

টিআইএন বাতিলের জন্য প্রথমে নিজের পরিস্থিতিতে আবেদন করা যায় কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন

এনবিআরের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত সেবা ও নিবন্ধন বাতিলের বর্তমান নিয়ম জানতে পারবেন।

ওয়েবসাইট: https://nbr.gov.bd/

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

কর অফিসে সরাসরি আবেদন

অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে-

টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;
জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি;
টিআইএন বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে আবেদনপত্র;
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;
সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র;
অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি।

সব আবেদনকারীর জন্য একই ধরনের কাগজপত্র প্রযোজ্য নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।

টিআইএন বাতিল হলে কি আর রিটার্ন দিতে হবে না?

টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বাতিলের লিখিত প্রমাণও সংগ্রহ করা উচিত।

তবে টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব কর-সংক্রান্ত দায় শেষ হয়ে যায় না। বাতিলের আগের সময়ের বকেয়া কর, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কিংবা অন্য কোনো আইনগত বিষয় থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।

ভবিষ্যতে রিটার্ন দিতে হবে কি না, তা প্রযোজ্য আইন এবং করদাতার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে, পরে আবার টিআইএন প্রয়োজন হলে পুরোনো নিবন্ধন পুনরায় চালু করা যাবে, নাকি অন্য কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন

শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আপনার আয়, সম্পদ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতে টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা জরুরি।