ফুটবলে গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়, আর গোল করার দক্ষতাই একজন খেলোয়াড়কে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি। ক্যারিয়ারে গোলের সংখ্যার বিচারে সেই খ্যাতির শীর্ষে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৯০০ পেরিয়ে ইতোমধ্যে ১ হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই তারকা। তার পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি, আর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবলের বহু কিংবদন্তি।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ ১০ গোলদাতার মধ্যে রোনালদোর গোল ৯৭৯টি এবং মেসির ৯৩০টি। এরপর রয়েছেন পেলে, রোমারিও, ফেরেঙ্ক পুশকাশ, ইয়োসেপ বিকান, রবার্ট লেভানডভস্কি, জিমি জোন্স, গার্ড মুলার ও জো ব্যামব্রিক। বিভিন্ন সময়ের খেলোয়াড় হওয়ায় কয়েকজনের গোলসংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যানগত পার্থক্য রয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
ক্যারিয়ারে ৯৭৯ গোল করে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে আছেন রোনালদো। স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, আল নাসর ও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে গোলের এই রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোল পূর্ণ করা।
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
রোনালদোর পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা, পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলে তার গোলসংখ্যা ৯৩০। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন মাইলফলকে দ্রুত পৌঁছে রোনালদোর বেশ কিছু রেকর্ডও ভেঙেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
পেলে (ব্রাজিল)
ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি পেলে সান্তোস ও ব্রাজিলের হয়ে ৭৬২ গোল করেছেন। তিনবার বিশ্বকাপজয়ী এই ব্রাজিলিয়ান তারকার অনানুষ্ঠানিক ম্যাচের গোল হিসাব করলে সংখ্যাটি ১২০০ ছাড়িয়ে যায় বলে বিভিন্ন দাবি রয়েছে।
রোমারিও (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোমারিওর ক্যারিয়ার গোল প্রায় ৭৫৬টি। প্রতিপক্ষের বক্সে তার অসাধারণ দক্ষতার কারণে কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ তাকে পেনাল্টি বক্সের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
ফেরেঙ্ক পুশকাশ (হাঙ্গেরি)
হাঙ্গেরির বিখ্যাত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট ম্যাগিয়ার্স’ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ফেরেঙ্ক পুশকাশ। রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। হাঙ্গেরি ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৭২৫।
ইয়োসেপ বিকান (চেক/অস্ট্রিয়া)
১৯৩০ থেকে ১৯৫০-এর দশকে ফুটবল মাতানো ইয়োসেপ বিকানের গোলসংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যানগত মতভেদ রয়েছে। তবে সাধারণভাবে তার ক্যারিয়ার গোল ৭২২টি বলে ধরা হয়।
রবার্ট লেভানডভস্কি (পোল্যান্ড)
আধুনিক সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি ডর্টমুন্ড, বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনার হয়ে ৭০৪ গোল করেছেন। পোল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি।
জিমি জোন্স (উত্তর আয়ারল্যান্ড)
উত্তর আয়ারল্যান্ডের জিমি জোন্স মূলত আইরিশ লিগে নিজের গোলের রেকর্ড গড়েছেন। তার ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা ৬৩৯। গ্লেনাভনের হয়ে দীর্ঘ সময় দুর্দান্ত গোল করার কারণে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।
গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি)
বায়ার্ন মিউনিখ ও পশ্চিম জার্মানির হয়ে প্রায় ৬৩৪ গোল করেছেন গার্ড মুলার। ১৯৭৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির জয়সূচক গোলটি করেছিলেন এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার।
জো ব্যামব্রিক (উত্তর আয়ারল্যান্ড)
তালিকার দশম স্থানে থাকা জো ব্যামব্রিক লিনফিল্ড ও চেলসির হয়ে মোট ৬২৬ গোল করেছেন। লিনফিল্ডের হয়ে এক মৌসুমে ৫০ গোল করার কীর্তিও রয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের এই সাবেক তারকার।



