সংস্কার করা ক্যাম্প ন্যুকে শুধু ফুটবল স্টেডিয়াম নয়, বড় বাণিজ্যিক আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে বার্সেলোনা। স্টেডিয়ামের ২ হাজার ভিআইপি আসনের লাইসেন্স বিক্রি করে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরো আয়ের লক্ষ্য নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি।
বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব ভিআইপি আসনের লাইসেন্স ১৫ ও ৩০ বছরের মেয়াদে বিক্রি করা হবে। ক্রেতাদের পুরো অর্থ চুক্তির শুরুতেই পরিশোধ করতে হবে। ক্লাবটির আশা, দুই থেকে আড়াই মৌসুমের মধ্যে সব আসনের লাইসেন্স বিক্রি হয়ে যাবে।
তবে ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর পুরো অর্থ তাৎক্ষণিক আয় হিসেবে দেখাবে না বার্সেলোনা। চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী এই অর্থকে ‘কমিটেড রেভিনিউ’ হিসেবে হিসাব করবে ক্লাবটি। নতুন ক্যাম্প ন্যুকে বাণিজ্যিকভাবে আরও লাভজনক করে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ভিআইপি আসন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৪৭৫টি ভিআইপি আসনের লাইসেন্স বিক্রির চুক্তি করেছিল বার্সেলোনা। সর্বোচ্চ ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ইউরো। এবার আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে আগের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি আয়ের পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি।
বার্সেলোনার তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ভিআইপি আসন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয়েছে। এসব চুক্তি থেকে ক্লাবটির নিশ্চিত আয় ৩৮০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি। তবে সব আসনের লাইসেন্সের মেয়াদ একই নয়।
ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজের ব্যয় বাড়তে থাকায় আর্থিক চাপও বেড়েছে বার্সেলোনার ওপর। স্টেডিয়াম সংস্কারে অতিরিক্ত খরচ এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম আয়ের ঘাটতি সামাল দিতে ক্লাবটি ৫১০ মিলিয়ন ইউরোর দুটি নতুন অর্থায়নের উৎস খুঁজছে।
বার্সেলোনার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যাম্প ন্যুর সংস্কার পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা ২০২৮-২৯ মৌসুমে। সংস্কার শেষে স্টেডিয়ামটিকে শুধু ম্যাচ আয়োজনের জায়গা হিসেবে নয়, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক আয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।


