দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ৬২ হাজার ৯১৬টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ‘কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন’। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।
কমিশনের তথ্যমতে, মোট হামলার মধ্যে ৪৮ হাজার ১৭৪টি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এবং ১৪ হাজার ৭৪২টি বসতি স্থাপনকারীদের। হামলার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি নাগরিক, তাদের জমি ও সম্পদ।
কমিশন জানায়, সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে হেবরনে, ১০ হাজার ৮৪০টি। এরপর রয়েছে রামাল্লা ও আল-বিরেহ (১০ হাজার ৫৯৪) এবং নাবলুস (১০ হাজার ২৬১)। হামলার আওতায় এসেছে ৩৭৬টি ফিলিস্তিনি গ্রাম ও জনপদ।
বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এ সময়ে ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের জমি ও সম্পদে অগ্নিসংযোগের ১ হাজার ১৮২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
হামলায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ১১১টি গাছ উপড়ে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে এক লাখেরও বেশি জলপাই গাছ। জলপাই চাষ পশ্চিম তীরের বহু পরিবারের প্রধান জীবিকা। এ কারণে গাছ ধ্বংসের প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৮১৪টি ধ্বংসাভিযান চালিয়েছে। এতে ১ হাজার ৮৯৪টি বসতবাড়িসহ মোট ৫ হাজার ৫৯টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে সামরিক আদেশ ও ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় ৬৪ হাজার ২০০ দুনাম (প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৪ একর) ফিলিস্তিনি জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এক দুনাম এক হাজার বর্গমিটারের সমান, অর্থাৎ বাজেয়াপ্ত জমির পরিমাণ প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার। কমিশন এই দখলের হারকে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে বর্ণনা করেছে।
এ ছাড়া বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরে ২১১টি নতুন পশুপালনভিত্তিক ফাঁড়ি (আউটপোস্ট) স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গ্রেপ্তার, উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি ধ্বংস, জমি সমতলকরণ ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ। আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি অবৈধ।


