জয়ের সুবাস ছড়িয়েও শেষ রক্ষা হলো না জিম্বাবুয়ের। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার অবিশ্বাস্য এক জুটির কাছে হেরে মাঠ ছাড়তে হলো স্বাগতিকদের।
শেষ উইকেটে নাথান এলিস ও স্পেন্সার জনসনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করে এক বল হাত রেখেই ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। এই নাটকীয় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল অজিরা।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৭২ বলে ঝড়ো গতিতে অপরাজিত ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন।
এছাড়া ক্রেইগ আরভিন ৭৯ বলে ৫৯ এবং ইনোসেন্ট কাইয়া ৬৬ বলে ৫৫ রান করেন। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস ৫০ রান খরচ করে শিকার করেন ৩টি উইকেট।
জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শকে হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন ঘটলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন জশ ইংলিস। তিনি ১০২ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে টিকিয়ে রাখেন।
তবে ইংলিস আউট হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জিম্বাবুয়ের বোলারদের হাতে। একে একে নবম উইকেটের পতন ঘটলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় আরও ২৭ রানের। শেষ ব্যাটার স্পেন্সার জনসনকে সাথে নিয়ে এই কঠিন চ্যালেঞ্জই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন নাথান এলিস।
ম্যাচ গড়ায় শেষ দুই ওভারের চরম নাটকে। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে এলিসের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে জিম্বাবুয়ের জন্য বড় কাল হয়ে দাঁড়ান ওয়েসলি মাধেভেরে।
শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলের ওপর থেকে সমস্ত চাপ কমিয়ে দেন এলিস। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে ৪৪ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এলিস, আর ৭ রান নিয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জনসন।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্র্যাড ইভান্স ৪৭ রান দিয়ে একাই ৪টি উইকেট শিকার করে জয়ের স্বপ্ন দেখালেও, শেষ মুহূর্তে ক্যাচ মিসের সেই চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ আর হোয়াইটওয়াশ এড়াতে না পারার বেদনা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো জিম্বাবুয়েকে।



