ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভিকে জার্মানিতে ‘ফ্রিডম প্রাইজ’ বা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। দেশটির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এক বিতর্কিত অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। তবে তাকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে জার্মানির কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির উদারপন্থী ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির (এফডিপি) ঘনিষ্ঠ সংগঠন ফ্রিডরিশ নাউমান ফাউন্ডেশন রেজা পাহলভিকে এই সম্মাননা দিয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ করে পাহলভি বলেন, ইরানের জনগণকে নতুন করে গণতন্ত্র শেখানোর প্রয়োজন নেই। বরং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকারের জন্য যে জনগণ জীবন দিতেও প্রস্তুত, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত।’
পাহলভির ভাষায়, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝেন ইরানের জনগণ। তাই এই পুরস্কারের প্রকৃত দাবিদার তারাই।
তবে ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে এই পুরস্কারের ‘অস্থায়ী আমানতদার’ হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান তিনি।
পাহলভি বলেন, ‘আমি এটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করছি। একদিন এর প্রকৃত মালিকদের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেব। বিদেশের মাটিতে নয়, তেহরানে।’
রেজা পাহলভির বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের সর্বশেষ শাহ। তার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৭৯ সালে গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যান। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ইসলামি ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
এদিকে রেজা পাহলভিকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে জার্মানির স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টের মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ও গ্রিনস পার্টির স্থানীয় শাখা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বর্জন করে। তাদের যুক্তি, রেজা পাহলভিকে ইরানের জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
অন্যদিকে বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের ফ্রাঙ্কফুর্ট শাখা সেন্ট পলস চার্চে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতা করেছে। দলটির দাবি, শহরের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ওই স্থাপনায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেই।
তবে এসব বিরোধিতা ও বিতর্কের মধ্যেই ফ্রাঙ্কফুর্টে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন রেজা পাহলভি।


