...|...|...

বরিশাল

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে কুয়াকাটার পর্যটন খাত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:২৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:২৩
Shares
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে কুয়াকাটার পর্যটন খাত

ছবি: টাইমস টুডে

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় প্রতিদিন একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে কুয়াকাটায় দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে দীর্ঘ সময় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

কুয়াকাটায় প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, শতাধিক রেস্তোরাঁ এবং অসংখ্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, শুধু জেনারেটরের জ্বালানি ব্যয়ই প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছে।

হোটেল খান প্যালেসের পরিচালক সাকুর বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫ বার বিদ্যুৎ গেছে। বাধ্য হয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছ থেকেও নানা অভিযোগ শুনতে হচ্ছে।

রাখাইন মার্কেটের রুচিতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক আবু বকর জানান, শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ব্যবসা সচল রাখতে একদিনেই প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হয়েছে। পুরো রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক রিফাত বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হোটেলে স্বাভাবিকভাবে থাকা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটা সাব-জোনাল অফিসের আওতায় কুয়াকাটা পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ থেকে ১২ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, “চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার জন্য আলাদা কোনো বিদ্যুৎ বরাদ্দ নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া পর্যন্ত এ সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।