...|...|...

জাতীয়

৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:০৬ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৪৩
Shares
৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী (হোয়াইটেনিং) ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রায় মার্কারি (পারদ) শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যে বাংলাদেশ মানদণ্ডে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বহু গুণ বেশি মার্কারি পাওয়া যাওয়ায় সেগুলো বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ না করার পাশাপাশি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমের নমুনা পরীক্ষায় উদ্বেগজনক ফলাফল পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় কয়েকটি পণ্যে এর চেয়ে কয়েক ডজন থেকে শতাধিক গুণ বেশি মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম, কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম এবং নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কো. লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

বিএসটিআই জানায়, দেশে বাজারজাত হওয়া অনেক ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বৈধভাবে আমদানি করা হয় না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করায় সেগুলোর মান যাচাই ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সাথে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বাজারকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিএসটিআই ভোক্তাদের অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সাথে প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে সংস্থাটিকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।