...|...|...

জাতীয়

পে-স্কেল চালু হলেই বাতিল হবে যে সুবিধা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৬
Shares
পে-স্কেল চালু হলেই বাতিল হবে যে সুবিধা

ফাইল ছবি

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হলেই সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে। এর পরিবর্তে নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।

নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নতুন হারে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ পাচ্ছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাচ্ছেন ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হলে এই বিশেষ সুবিধা আর থাকবে না। এর পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।

১ম থেকে ৯ম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ তিন ধাপে এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা নতুন বর্ধিত মূল বেতনের পুরো ১০০ শতাংশ পাবেন। তবে নতুন হারে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ফলে প্রথম ধাপে তারা নতুন বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে মোট ৭৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে পুরো ১০০ শতাংশ পাবেন। নতুন হারে সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন বেতন কাঠামোর তথ্য অনুযায়ী, ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। ১ম গ্রেডে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। ২য় গ্রেডে বর্তমান ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা হবে। ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা হবে।

৪র্থ গ্রেডে বর্তমান ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা হবে। ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা হবে। ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা হবে।

৭ম গ্রেডে বর্তমান ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা হবে। ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা হবে। ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা হবে।

১০ম গ্রেডে বর্তমান ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা হবে। ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা হবে। এই ১১টি গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার আরও বেশি। ১২তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ। এ গ্রেডে বর্তমান ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা হবে। ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা হবে।

১৪তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩০ শতাংশ। এ গ্রেডে বর্তমান ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা হবে। ১৫তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা হবে। ১৬তম গ্রেডেও বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। এ গ্রেডে বর্তমান ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা হবে।

১৭তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ। এ গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা হবে। ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা হবে।

১৯তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৪১ শতাংশ। এ গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা হবে। আর ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা হবে।

নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে। তবে বর্ধিত বেতন একবারে নয়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কয়েক ধাপে কার্যকর হবে। নতুন পে-স্কেল চালু হলে বর্তমানে দেওয়া ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে। আর নতুন কাঠামোর পূর্ণ ভাতাসুবিধা পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।