প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকাকে দোষের মনে করেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সেই সমর্থনের প্রকাশ সরকারি দফতরে নয়, ব্যালট বাক্সে ঘটতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একইসাথে দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শীর্ষ ১০ কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একাডেমিক জ্ঞানার্জনের পর এবার কর্মক্ষেত্রে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সময় এসেছে। সরকারি প্রশাসন যত বেশি দক্ষ হবে, সরকারের কার্যক্রমও তত বেশি সফল হবে। তাই রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অপরিহার্য। এসব গুণ একজন কর্মকর্তার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা প্রশাসন, পররাষ্ট্র, কৃষি, ট্যাক্সেশন, শিক্ষা, তথ্যসহ বিভিন্ন ক্যাডারে যোগ দেবেন। কর্মস্থল ও কাজের ধরন আলাদা হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তারা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকরা সরকারি অফিসে সহযোগিতা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজের জন্য যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা মানুষের সাথেও তেমন আচরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। তবে বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসরণ করার পাশাপাশি নাগরিকের সাথে মানবিক আচরণও জরুরি। কোনো আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু সংশোধন করতে বলে দায়িত্ব শেষ করা উচিত নয়। বরং ভুলটি দেখিয়ে কোথায় এবং কার কাছে গেলে সংশোধন করা যাবেÑসে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াই আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয়।
কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য কেউ কেউ পেশাগত দক্ষতা ও সততার সাথে আপস করেন। দেশের যে কোনো স্থানে, জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের সমর্থন থাকা ব্যক্তিগতভাবে দোষের নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল এবং জনগণ সে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে ইশতেহার এখন জনগণের দলিল। তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে সে দায়িত্ব পালন করবেনÑএটাই প্রত্যাশা।
প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


