...|...|...

জাতীয়

সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতিতে জড়িতদের ছাড় নয়

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৩ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪২
Shares
সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতিতে জড়িতদের ছাড় নয়

জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির অষ্টম বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত কেউ দায়মুক্তি পাবেন না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। একইসাথে বর্তমান সরকারের আমলেও দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির অষ্টম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক এবং মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া অংশ নেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২০-২১ অর্থবছরের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট (রিপোর্ট নং-২৮/২০২৩) এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট (রিপোর্ট নং-২১/২০২২) পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। আদায়, সমন্বয়, অবলোপন, প্রমার্জন, নিয়মিতকরণ ও ভূতাপেক্ষ অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় অপেক্ষমাণ আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি। পাশাপাশি মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আপত্তি এবং আগের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেয় কমিটি। এ জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ই-বিলিং ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক পরিশোধ এবং দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে বন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর বিনিয়োগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি। বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে বিনিয়োগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অর্থ উত্তোলন না করা এবং নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ জমা রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সাথে কার্যকর আলোচনা, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে কমিটিকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সব অর্থ সরকারি ব্যাংকে জমা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহনের সমস্যাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এসব সমস্যা আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া খালি কনটেইনারের নামে বন্দর থেকে মালবাহী কনটেইনার বের করে নেওয়া এবং কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়।

মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, নির্ধারিত ড্রাফট ও নাব্যতা অর্জন এবং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া অডিট আপত্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ উৎসাহ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব, বন্দর চেয়ারম্যান ও কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।