...|...|...

বিশ্ব

ভারতের লখনউতে

গ্রাহকের রক্ত বিক্রি করে ঋণের কিস্তি আদায় করল কোম্পানি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৭
Shares
গ্রাহকের রক্ত বিক্রি করে ঋণের কিস্তি আদায় করল কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত

শখের একটি স্মার্টফোন কেনার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল কিস্তির মাধ্যমে। কিন্তু সময়মতো সেই কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় এক তরুণকে অপহরণ করে রক্ত বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক রোমহর্ষক ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ। বকেয়া ঋণের কিস্তি আদায় করতে গিয়ে ফিন্যান্স কোম্পানির রিকভারি এজেন্টদের এই বর্বর আচরণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলা টিভি ৯-এর বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লখনউয়ের শেষ প্রান্তের রাজারাম খেরা গ্রামের বাসিন্দা নেহাল পেশায় বেকার ও কর্মহীন হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপি মূল্যের একটি মোবাইল ফোন কিস্তিতে কিনেছিলেন। শর্ত ছিল, এক বছর ধরে প্রতি মাসে ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু নিজস্ব কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় নেহাল প্রথম মাসের কিস্তিই পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই ফিন্যান্স কোম্পানির রিকভারি এজেন্টরা তার ওপর বেপরোয়া চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর শুভম ও অনিকেত নামের দুই রিকভারি এজেন্ট সরাসরি নেহালের বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে জোর করে রক্তদান করানো হয় এবং সেই রক্ত বিক্রি করেই বকেয়া কিস্তির টাকা আদায় করা হয়। এখানেই শেষ নয়; এরপর নেহালকে শুভমের বাড়িতে আটকে রেখে টানা চার দিন ধরে গৃহপরিচারকের কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত নেহালকে মুক্তি দেওয়ার আগে তার দাদা রাজকুমারের কাছ থেকেও জোর করে এক মাসের কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছিল।

ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নেহালের মা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং গত ১৪ সেপ্টেম্বর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। লখনউ সাউথের ডিসিপি মোহাম্মদ মুশতাক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে এবং কল ডিটেইলস বা প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফিন্যান্স কোম্পানির দুই কর্মী শুভম ও অনিকেতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে চক্রের সাথে জড়িত অপর এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার রুপি অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু ওই দুই কর্মীই নন, পুরো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্স কোম্পানি এবং ওই ব্লাড ব্যাংকটির কোনো অবৈধ সম্পৃক্ততা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।