...|...|...

বিশ্ব

ইরানের স্থলপথে ‘অস্ত্র সরবরাহ’ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টাস্কফোর্স গঠন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪০
Shares
ইরানের স্থলপথে ‘অস্ত্র সরবরাহ’ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টাস্কফোর্স গঠন

ইরানের স্থলপথে ‘অস্ত্র সরবরাহ’ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টাস্কফোর্স গঠন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সমুদ্রপথে অবরোধের পর এবার স্থলপথেও অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কয়েক মাস ধরে চলা নৌ-অবরোধ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সেন্টকম নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানায়। বাহিনীটির ভাষ্য, স্থলপথ ব্যবহার করে ইরান যাতে উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন টাস্কফোর্সটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের যে সাফল্য এসেছে, নতুন টাস্কফোর্স সেই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় নতুন টাস্কফোর্সটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এটি মার্কিন সরকারের অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, সামরিক-বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য এবং অবৈধ আয়ের অর্থ পরিবহন বন্ধ করাই হবে এই টাস্কফোর্সের প্রধান লক্ষ্য।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল-জাজিরাকে বলেন, নতুন টাস্কফোর্সের কাজ হবে ইরানে অস্ত্রব্যবস্থা কোথা থেকে আসছে, কীভাবে সেসব সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব এবং ইরান কীভাবে জ্বালানি পরিবহন করছে, তা শনাক্ত করা।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিলে এসব স্থাপনাই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মুলরয়ের মতে, আগের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মূলত সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও নতুন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরান যাতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং সেই যুদ্ধের অর্থায়নের উৎস হারায়, সে উদ্দেশ্যেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে শনিবার পৃথক এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর চলমান অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকমের দাবি, সেন্ট কিটসের পতাকাবাহী ‘এমভি হুদা’ নামের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলার আগে এর নাবিকদের নির্দিষ্ট অংশ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর মার্কিন সামরিক বিমান থেকে জাহাজটির পেছনের অংশে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে নির্দেশ অমান্য করায় পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।