পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে আটক করেছে দেশটির প্রশাসন। ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআইয়ের ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার আগে লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে তাঁকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০-এর (এমপিও) আওতায় আলিমা খান ও মুহাম্মদ আমির নামের এক ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁদের লাহোরের কোট লাখপাত কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের হেফাজতে রাখার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আলিমা খানকে কোট লাখপাত কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তবে আটকের পরপরই তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পিটিআইও তাঁর আটককে নিন্দা করেছে।
ডেপুটি কমিশনারের আদেশে লাহোর ক্যাপিটাল সিটি পুলিশের একটি চিঠির উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, আলিমা খান ও মুহাম্মদ আমির জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর পিটিআইয়ের বিক্ষোভে তাঁরা সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।
আদেশে আরও অভিযোগ করা হয়, তাঁরা দলীয় কর্মীদের সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুরে প্ররোচিত করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভার মাধ্যমে আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও পুলিশের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, লাহোরের সিভিল লাইন্স ডিভিশনের পুলিশ সুপার ও জেলা গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আলিমা খান ও আমিরকে ৩০ দিনের জন্য এমপিওর আওতায় আটকের সুপারিশ করেন।
আলিমা খানের বোন নরিন নিয়াজি অভিযোগ করেন, শনিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আলিমা ও তাঁর গাড়িচালককে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, আলিমার গাড়িটি একটি থানায় রাখা হয়েছে। আলিমার আইনজীবী মুদাসসির উমরও জানান, আটকের বিষয়ে তাঁরা তখনও আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাননি।
আলিমার ছেলে শাহরেজ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর মাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলিমার কোনো যোগাযোগ নেই এবং তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়েও তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, লাহোরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে আলিমা জামিনে ছিলেন।
নরিন নিয়াজি আলিমার আটককে ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের আগে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি পিটিআই সমর্থকদের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, আলিমা খানকে আটক করলেই তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন—এমনটা ভাবলে সরকার ভুল করবে।
২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের আটকের অভিযোগও উঠেছে।


