ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরা একদল বিক্ষোভকারী পত্রিকা কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ভবনের প্রবেশপথের পাশের দুটি থামে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন তারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। পরদিন এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রধান শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করে আনন্দবাজার পত্রিকা। এই শিরোনাম নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তা না হলে গেরুয়া পোশাক পরে প্রতিবাদ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এরপর ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর করে।
মঙ্গলবার দুপুরে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পত্রিকা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতিতে ভবনের মূল ফটকের ওপর গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং পত্রিকার ব্যবহৃত ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দের প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতেই পারে। তবে কোনোভাবেই গেরুয়া রংকে অসম্মান করা মেনে নেওয়া হবে না। তারা আরও বলেন, পুলিশের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা হচ্ছে। দাবি অনুযায়ী সংশোধন না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
কিছুক্ষণ অবস্থানের পর বিক্ষোভকারীরা ভবনের মূল ফটকের পাশের দুটি থামে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন। এরপর ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই কর্মসূচির সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং দলীয়ভাবে এমন কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি। এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনাতেও এবিভিপির কর্মকাণ্ডের দায় দলীয়ভাবে অস্বীকার করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। পত্রিকাটির সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভবনের দেয়ালে লাগানো গেরুয়া রং পরে আবার সাদা করা হয়েছে। পোস্টের ছবির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন—‘উচ্চ যেথা শির’।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে পুলিশ উপস্থিত থাকলে তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় থাকতে দেখা যায়।
তবে আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।


