টানা ভারী বৃষ্টিতে ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাং ভ্যালিতে হড়পা বানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পের দুটি শিবির ভেসে গেছে। এতে পাঁচ সেনাসদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। অন্যদিকে, আপার সুবানসিরি জেলায় আকস্মিক ধসে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) অরুণাচল প্রদেশ সরকার এসব তথ্য জানিয়েছে। দুই ঘটনাস্থলেই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।
ইটানগরের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও হড়পা বানের পানির তোড়ে পাসু পানি আর্মি ক্যাম্পের দুটি সেনা শিবির ভেসে যায়। ঘটনার সময় সেখানে সাত সেনাসদস্য ছিলেন।
পানির প্রবল স্রোতে তাদের সবাই ভেসে গেলেও দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ সেনাসদস্যরা হলেন হাবিলদার উপেন্দ্র, কুন্দন, বিনোদ, আদিত্য ও সামুন্ডা।
পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার জানান, পাসু পানি আর্মি ক্যাম্পে ৫ম গ্রেনেডিয়ার্সের দুটি আশ্রয়কেন্দ্র ভেসে গেলে সাত সেনাসদস্য পানির স্রোতে আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ সেনাদের সন্ধানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ৫৮ ব্যাটালিয়ন, জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্সের ৬২ RCC, অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। পাসিঘাট থেকেও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
এদিকে, আপার সুবানসিরি জেলার কেওজারিং-বিয়াচিং এলাকায় সড়ক নির্মাণের কাজ চলার সময় আচমকা ধস নামে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন।
ধসের নিচে চাপা পড়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন তাদু বাকি, তাজি রাই, মার্কোস বসুমাতারি ও বাবুল আলি।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে নাচো থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। দাপোরিজো থেকে দমকল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
একই দিনে অরুণাচল প্রদেশের দুই জেলায় হড়পা বান ও ধসের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে নিখোঁজ পাঁচ সেনাসদস্যের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে ধসের ঘটনায় উদ্ধার ও লাশ উদ্ধারের কাজও অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।



