চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের লাশের অপেক্ষায় রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুরের পরিবার। ছেলের লাশ আসার অপেক্ষায় শোকে পাথর বাবা আসাদুল হক। মায়ের মৃত্যুর তিন বছর পর এবার সেই মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন রিফাত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে রিফাতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। ভোর থেকেই আশপাশের গ্রামের মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নিজের কান্না সামলাতে পারছেন না।
তাসনিম রিফাত (২৮) চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন। কন্যাকে ঘিরে দেখা ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তার। শেষ ভিডিও কলেও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছিলেন তিনি।
চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত ও ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বিশালের সাথে তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একসাথে বেড়ে ওঠা ও একই ক্লাসে পড়ার স্মৃতিগুলো এখন পরিবারের কাছে শুধুই বেদনার।
ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত অশ্রুসজল কণ্ঠে রিফাতের সাথে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করেন। আকস্মিক এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।
বাবা আসাদুল হক বলেন, গত কোরবানির ছুটিতে রিফাত গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। এরপর নিয়মিত পরিবারের সাথে যোগাযোগ হতো। কয়েকদিন আগেও ছেলের সাথে ভিডিও কলে কথা হয়েছে তার।
আসাদুল হক বলেন, আমার জীবনটা বড় কষ্টের। স্ত্রীকে হারিয়েছি ক্যানসারে। এখন ছেলেও চলে গেল। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কতটা ভারী, তা বোঝাতে পারব না। মায়ের কবরের পাশে রিফাতকে দাফন করা হবে।
গত বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন রিফাত। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে রিফাতের লাশ ঢাকায় নেওয়ার পর রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। জানাজা শেষে বিন্দারামপুরে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।



