...|...|...

বিশ্ব

দিল্লি সফরে শি জিনপিং

অরুণাচল দখলে নিয়মিত এগোচ্ছে চীনের সেনাবাহিনী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৩৭
Shares
অরুণাচল দখলে নিয়মিত এগোচ্ছে চীনের সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের ভারত-চীন বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নতুন ভবন, সড়ক ও হেলিপ্যাড নির্মাণের তথ্য সামনে এসেছে।

ভারত ও চীনের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের দাবি, চীনের অগ্রসরমান কার্যক্রমের কারণে তারা দীর্ঘদিনের ব্যবহার করা ইয়াক চড়ানো ও শিকারের এলাকা থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে।

‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চীন বিতর্কিত সীমান্তের কাছে ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ দেখা গেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে নতুন ভবন, রাস্তা এবং হেলিপ্যাড।

উপগ্রহ চিত্রে নির্মাণের তথ্য

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভ্যান্টর’ উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে আপার সুবানসিরি উপত্যকার কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক নির্মাণকাজ ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে গেলিমো গ্রামের আশপাশের অঞ্চল।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তের চীন নিয়ন্ত্রিত অংশে ঝারি শহরের কাছে কিছু স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, এসব অবকাঠামোর কিছু অংশ এমন এলাকায় রয়েছে, যা ভারত ও চীন উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে।

একটি নির্মাণস্থলে সমতল করা জমি, প্রকৌশল কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, নির্মাণকাজ এবং সিমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এসব স্থাপনার সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া লুনজের দক্ষিণে দুটি ছোট হেলিপ্যাডের জায়গায় নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের তথ্যও উপগ্রহ চিত্রে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের আগস্টের সর্বশেষ ছবিতে দেখা যায়, অন্তত একটি স্থাপনার নির্মাণকাজ এখনও চলমান।

শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সময়েই অভিযোগ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই ভারতে তাঁর প্রথম সফর। ওই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন।

দুই দেশের সরকার সীমান্ত উত্তেজনাকে বড় করে দেখতে না চাইলেও উপগ্রহ চিত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিতর্কিত এলাকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

অরুণাচলের গেলিমো গ্রামের বাসিন্দা তাকোক মরা অভিযোগ করেন, চীনারা তাদের পৈতৃক ভূমিতে প্রবেশ করছে। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয়রা এসব এলাকায় জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন সেখানে যেতে বাধার মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও সীমান্ত এলাকায় চীনা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ‘অল ট্যাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’-এর সভাপতি টাদাক পাকবা বলেন, চীনা অনুপ্রবেশের ঘটনা আগে কখনো এমন পর্যায়ে দেখা যায়নি।

তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় টহল কমে যাওয়ার সুযোগে চীনা বাহিনী এগিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, ইয়াক চড়ানো ও শিকারের ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোতেও এখন প্রবেশ সীমিত হয়ে গেছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় সেনাবাহিনী বিতর্কিত এলাকায় চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগগুলোকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপরই দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থা নির্ভর করবে। অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশলের অভিযোগ

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়না স্টাডিজের অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লির মতে, অরুণাচলে চীনের কার্যক্রম ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশলের অংশ হতে পারে। এই কৌশলে বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই ধাপে ধাপে অবস্থান শক্তিশালী করা হয়।

তাঁর মতে, সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে চীন এগিয়ে রয়েছে এবং ভারতেরও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।

শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে সীমান্ত ইস্যু কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। তবে উভয় দেশই ব্রিকস সম্মেলনকে সফলভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।