...|...|...

বিশ্ব

লিসবনে ছাড়া হয়েছে ৩০ হাজার বন্ধ্যা মশা, নেপথ্যে কী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:৩১
Shares
লিসবনে ছাড়া হয়েছে ৩০ হাজার বন্ধ্যা মশা, নেপথ্যে কী

ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ছাড়া হয়েছে ৩০ হাজার বন্ধ্যা মশা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও মানুষের ক্ষতি করা নয়, বরং ডেঙ্গু, জিকা ও পীত জ্বরের মতো রোগের বাহক এশিয়ান টাইগার মশার সংখ্যা কমাতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী লিসবনের আলভালাদে এলাকায় ছাড়া হয় ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ প্রজাতির এসব বন্ধ্যাকরণ করা পুরুষ মশা। পুরুষ মশা হওয়ায় এগুলো মানুষকে কামড়ায় না। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পের লক্ষ্য, বুনো মশার সঙ্গে প্রজননে প্রতিযোগিতা তৈরি করে এশিয়ান টাইগার মশার বংশবৃদ্ধি কমানো।

লুসা সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সান্তা মারিয়া লোকাল হেলথ ইউনিটের ফ্রান্সিসকো জর্জ পাবলিক হেলথ ইউনিটের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আফনসো মোরেইরা বলেন, পরীক্ষিত ও নিরাপদ একটি পদ্ধতিতে এসব পুরুষ মশাকে বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, স্বাভাবিকভাবে এশিয়ান টাইগার মশার উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায় বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছেড়ে দিলে তারা বুনো পুরুষ মশার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। এসব মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলন হলেও কোনো বংশবৃদ্ধি হবে না। ফলে সময়ের সঙ্গে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

কেবল স্ত্রী মশারই রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই বন্ধ্যাকরণ করা পুরুষ মশা মানুষকে কামড়াবে না। গবেষকদের প্রত্যাশা, এ পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্ত্রী মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

পর্তুগালে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে দেশটিতে মোট ৬০ হাজার মশা ছাড়া হয়েছে। এবারের ৩০ হাজার মশা অবমুক্তকরণ হবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সর্বশেষ ধাপ।

প্রথম ধাপে গবেষকরা ছাড়া হওয়া মশাগুলোর আচরণ, নির্দিষ্ট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা এবং টিকে থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। ফলাফল ইতিবাচক হলে আগামী মে মাসে গবেষণার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে। তখন মশা ছাড়া হয়েছে এমন এলাকা এবং অন্যান্য পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে তুলনামূলক সমীক্ষা চালানো হবে।

তবে গবেষকদের মতে, বন্ধ্যা মশা অবমুক্ত করা মশা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি মাত্র। পাশাপাশি এশিয়ান টাইগার মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজও চালিয়ে যেতে হবে।