ভারতের বিহার রাজ্যে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। রাজ্যের ১৪টি জেলার ৮৪টি ব্লকের ৫১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৪০ লাখ ২১ হাজার মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির বরাতে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টানা বৃষ্টির ফলে নদ-নদী ও ঝরনাগুলো উপচে পড়ছে। এছাড়া নেপালের ক্যাচমেন্ট এলাকা বা অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিহারের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটনা, ভোজপুর, সারন, বৈশালী, ভাগলপুর, বেগুসরাই, বক্সার, সমস্তিপুর, মুঙ্গের, কাটিহার, লাখিসরাই, খাগাড়িয়া, পূর্ণিয়া এবং আরওয়াল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে এ পর্যন্ত বিহারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৭৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ডিএমডি-র সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জে গঙ্গার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৭৮ মিটার, যা এর আগের সর্বোচ্চ বন্যার স্তর—২০২১ সালের ১৭ আগস্টের রেকর্ড করা ৩৬.৭৫ মিটারকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমানে নদীর পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গণ্ডক, কোশী, বুড়ি গণ্ডক, গঙ্গা, পুনপুন, বাগমতি এবং ঘাঘরা নদীসহ বেশ কয়েকটি প্রধান নদী ও এর শাখা নদী একাধিক স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
বিশেষ করে দুমারিয়া ঘাটে গণ্ডক নদী, বলতারা ও কুর্সেলায় কোশী, খাগাড়িয়ায় বুড়ি গণ্ডক, এবং দীঘা, গান্ধী ঘাট, হাতিদহ, ভাগলপুর, কাহালগাঁও ও মুঙ্গের পয়েন্টে গঙ্গা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া শ্রীপালপুরে পুনপুন, বেনিবাদে বাগমতি এবং দারৌলি ও গাংপুর সিসওয়ানে ঘাঘরা নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তার জন্য রাজ্যজুড়ে বর্তমানে মোট ৭২৩টি কমিউনিটি কিচেন বা গণরান্নাঘর চালু রয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি ত্রাণ শিবির পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে ১৩ হাজার ৪৪৬ জন বন্যাদুর্গত মানুষের আবাসন, খাবার, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের মধ্যে প্রায় ১.৯৪ লাখ পলিথিন শিট এবং প্রায় ২৯ হাজার ৪০০ শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও যাতায়াত সহজ করার জন্য বর্তমানে মোট ১,৯৭৯টি নৌকা চালানো হচ্ছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ৫,১০০ কুইন্টালের বেশি পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন জেলায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স-এর ২৭টি দল এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স-এর ১০টি দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী দুই দিন রাজ্যের কিছু কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি এবং এক-দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।


