চট্টগ্রামে আতঙ্ক ছড়ানো শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ (২৫) ৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
একই সাথে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় এলজি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন, ঢাকা মতিঝিলের মো. শামীম (২৮), রাউজানের মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তের সূত্র ধরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াছকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
মাসুদ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, উদ্ধার করা অস্ত্রের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা আগের একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এই বিশেষ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


