দীর্ঘ চার দশক ধরে কাদা-পানি, ভাঙাচোরা পথ আর দুর্ভোগের সাথে চলতে হয়েছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে। বর্ষায় সড়কটি হয়ে উঠত প্রায় অচল। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়ত পরিবহন খরচ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পোহাতে হতো বাড়তি দুর্ভোগ।
অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার অংশ পিচঢালাই করে পাকাকরণ হওয়ায় কমতে শুরু করেছে দীর্ঘদিনের সেই ভোগান্তি।
যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের যোগ্যাছোলা-আছাদতলী-ছদুরখীল অংশে সম্প্রতি প্রায় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির দেড় কিলোমিটার অংশ পাকা করা হয়েছে। এতে ছদুরখীল, ঘোরখানা, আছাদতলী, তুলাবিল, বড়বিল, খাড়িছড়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন কৃষকেরা।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বাড়ত। অনেক সময় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের মাথায় বা কাঁধে করে পণ্য বাজারে নিতে হতো। এতে উৎপাদন খরচের সাথে যুক্ত হতো বাড়তি পরিবহন ব্যয়; আবার সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা আরও প্রকট হয়। সম্প্রতি এলজিইডির উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দেড় কিলোমিটার অংশ পাকাকরণ হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার আমিরুল ইসলাম রকি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি আমাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ ছিল। বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত। এখন সড়কটি পাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ সবাই উপকৃত হচ্ছেন।
আরেক বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া থেকে শুরু করে বাজারে যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ বেড়ে যেত। এখন পাকা হওয়ায় মানুষের চলাচলে স্বস্তি এসেছে।
আছাদতলী এলাকার কৃষক মো. গাজী মিয়া বলেন, এই এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। এখন পাকা সড়ক হওয়ায় সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। এতে পরিবহন খরচও কমবে বলে আশা করছি।
খাগড়াছড়ি জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, প্রায় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। প্রোমা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাকি অংশও দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করা হবে। তাদের মতে, পুরো সড়কটি উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সাথে সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।


