ভারতের বিহারে এক দশক আগের একটি হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে। যৌতুক ও খুনের অভিযোগে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা জেল খাটলেও, ঘটনার ১২ বছর পর সেই ‘নিহত’ গৃহবধূকে ঝাড়খণ্ড থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাও ও গালফ নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে, যখন বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা শকুন্তলা দেবী তার শ্বশুরবাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর শকুন্তলার ভাই থানায় অভিযোগ করেন যে, যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নিয়মিত নির্যাতন করত। অভিযোগ দায়েরের ঠিক দুদিন পর খান্ডা গ্রামের নিকটবর্তী একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে শকুন্তলার ভাই এবং স্থানীয় এক কর্মকর্তা ওই লাশটি শকুন্তলার বলেই শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের পর হত্যা মামলা রুজু করে পুলিশ।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, তার বাবা দিলীপ মেহতা এবং ভাই গোবিন্দ কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটানোর পর অরুণ জামিনে মুক্তি পান। মেহতা পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে শকুন্তলার পরিবার আট লাখ রুপি দাবি করলে তারা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটির সুরাহা করেছিলেন।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শকুন্তলার খুনের মামলা হিসেবেই বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও সম্প্রতি পুরো ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। মেহতা পরিবারের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে শকুন্তলার শ্বশুর খবর পান যে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এরপর পরিবারের লোকজন দ্রুত ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন এবং রোহতাস পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লাভারি গ্রাম থেকে শকুন্তলাকে উদ্ধার করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, সেখানে তিনি ‘কান্তি দেবী’ ছদ্মনাম ধারণ করে অন্য এক ব্যক্তির সাথে সংসার পেতেছিলেন।
উদ্ধার করার পর পুলিশ শকুন্তলা দেবীকে রোহতাসে ফিরিয়ে এনে সাসারামের আদালতে হাজির করেছে। একই সাথে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শকুন্তলার এই জীবিত ফিরে আসায় বড় ধরনের গোলকধাঁধায় পড়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাতপরিচয় নারী আসলে কে ছিলেন এবং কেনই বা শকুন্তলার ভাই ভুল করে অন্য এক নারীর লাশ নিজের বোন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন—এখন সেই রহস্য উন্মোচনে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে রোহতাস জেলা পুলিশ।


