...|...|...

বিশ্ব

সৌদি সমর্থিত শত শত যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৪ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১০
Shares
সৌদি সমর্থিত শত শত যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক বিজয়ের দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুদায়দাহ ও তাইজ প্রদেশে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে তাদের যোদ্ধারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন বিবৃতিতে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, হুদায়দাহ ও তাইজের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সম্পূর্ণ হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই বড় আকারের সামরিক অভিযানে সৌদিপন্থী বাহিনীর সাতটি ডিভিশন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরাজিত এসব ডিভিশনের অধীনে মোট ৩৮টি ব্রিগেড সক্রিয় ছিল। অভিযান চলাকালীন সংঘর্ষে শত শত যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছে এবং বহু সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বন্দিশিবিরে অমানবিক পরিবেশে আটকে থাকা বেশ কয়েকজন বন্দিকে মুক্ত করার কথাও জানান ইয়াহিয়া সারি।

বিমান প্রতিরক্ষা ও নৌ অবরোধের হুঁশিয়ারি বিবৃতিতে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আরও দাবি করেন যে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সফলভাবে ৩২টি অভিযান পরিচালনা করে সৌদি আরবের ৯টি বিমান প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, লোহিত সাগর দিয়ে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজের ওপর তাদের কঠোর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে তাদের সামরিক চাপ ও অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানপন্থী বাহিনী ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখবে এবং সৌদির যেকোনো সামরিক স্থাপনা ও সমাবেশকে লক্ষ্য করে হামলা আরও তীব্র করা হবে।

এর আগে দীর্ঘদিনের অবরোধের প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই সানাভিত্তিক ইয়েমেনি সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সামরিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী, যার মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা দখলের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরব ও তার মিত্র জোট ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কঠোর অবরোধ শুরু করে। দীর্ঘ এক দশকের এই সংঘাতে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং এক গভীর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।