...|...|...

সারাদেশ

সরকারি হারের দ্বিগুণ ভাড়া, ভোগান্তিতে মৌলভীবাজারের যাত্রীরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:২৯
Shares
সরকারি হারের দ্বিগুণ ভাড়া, ভোগান্তিতে মৌলভীবাজারের যাত্রীরা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর সরকার সারাদেশে প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই নির্ধারিত হার মৌলভীবাজারে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বিভিন্ন রুটে। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং চাকরিজীবীরা পড়েছেন বিপাকে।

বৃহস্পতিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা রুটের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সরকারি নতুন হার অনুযায়ী এই রুটে ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ৩৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা হারে ২০০ কিলোমিটারে ২০০ গুণ ০.১৭ = ৩৪ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এই রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৮০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছে ৭০ টাকা, যা সরকারি হারের দ্বিগুণেরও বেশি। একই রুটে এসি বাসের ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শুধু দূরপাল্লার রুটেই নয়, অভ্যন্তরীণ রুটেও একই অবস্থা। শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সরকারি হারে এখানে ভাড়া বাড়ার কথা ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু সেখানে আগে বাস ভাড়া ছিল ১৭০ টাকা, যা এখন ৩০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। এসি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। যা সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।

এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেজু আহমেদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হঠাৎ করে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি মাসে আমার যাতায়াত খরচ তিন হাজার টাকা বেশি লাগবে। অথচ আমাদের বেতন বাড়েনি। কীভাবে চাকরি করবো আর পরিবার চালাবো তা বুঝতে পারছি না।’

একই অভিযোগ করেন সিলেটগামী শিক্ষার্থী আমির হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ছাত্র মানুষ। প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেটে ক্লাস করতে যেতে হয়। ৩০ টাকা বেশি ভাড়া আমাদের জন্য অনেক। কাউন্টারে কিছু বললে তারা বলে নিলে নেন, না নিলে নাই। দেখার কেউ নেই।’

এদিকে যাত্রীদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিবহন মালিকরা। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত হারে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে মৌলভীবাজারে কেউ বেশি ভাড়া নিতে পারবেন না। ভাড়ার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য দেশে আলাদা একটি বোর্ড আছে। তারা বিষয়টি দেখেন। যদি কেউ বেশি নেয়, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, মালিক সমিতির এমন বক্তব্য কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। টিকিট কাউন্টারগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও টানানো নেই। ফলে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর কঠোর নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।