সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের গভীর সমুদ্রে বিশাল আকারের পাথর ফেলেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস। সম্প্রতি সমুদ্রের তলদেশে ৯টি বড় পাথর স্থাপন করেছে সংগঠনটি। মূলত ক্ষতিকর বটম ট্রলিং পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধ করতেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বটম ট্রলিং হলো মাছ ধরার এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘেঁষে টেনে নেওয়া হয়। এতে মাছের পাশাপাশি সমুদ্রের নিচে থাকা উদ্ভিদ, প্রবালসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
এই ক্ষতি ঠেকাতে সমুদ্রের তলদেশে পাথর ফেলে মাছ ধরার ট্রলারের চলাচলে বাধা তৈরি করছে গ্রিনপিস। সংগঠনটির দাবি, তাদের এই উদ্যোগের ফলে সাউদার্ন নর্থ সি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার প্রায় ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বটম ট্রলিংয়ের আওতামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রিনপিস জানিয়েছে, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বছরের পর বছর রাজনীতিবিদদের সাথে আলোচনা করা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সমুদ্রে পাথর ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংগঠনটির মতে, সমুদ্রের তলদেশে ভারী জাল টেনে মাছ ধরার কারণে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে অনেক প্রজাতির মাছের খাদ্যের উৎস নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রলিংয়ের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ ডলফিনের মতো দেখতে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পারপয়েসের শিকার করার সক্ষমতাও ব্যাহত করছে।
এদিকে গ্রিনপিসের এই উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও পল্লিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যে কঠোর আইন রয়েছে। সমুদ্রে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলার পাশাপাশি অন্য ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশটির শতাধিক এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাছ ধরার পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।
গ্রিনপিস জানিয়েছে, সমুদ্রে ফেলা প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় দুই টন। পাথরগুলো স্থাপনের পর সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে নৌচলাচলের মানচিত্র হালনাগাদ করে অন্যান্য জাহাজকে সতর্ক করা যায়।
যুক্তরাজ্যের মেরিন ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশনও পাথরগুলোর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গ্রিনপিসের এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল উপকূলে একই উদ্দেশ্যে ১৮টি বিশাল পাথর ফেলেছিল সংগঠনটি।


