...|...|...

বিশ্ব

সমুদ্রের ৭ হাজার মিটার গভীরে এআই প্রযুক্তি পরীক্ষা করল চীন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৬:৪০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৪৫
Shares
সমুদ্রের ৭ হাজার মিটার গভীরে এআই প্রযুক্তি পরীক্ষা করল চীন

ছবি: সংগৃহীত

জিয়াপ্রশান্ত মহাসাগরের ফিলিপাইন সাগর অববাহিকায় প্রায় ৭ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিয়ে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। দেশটির হালনাগাদ মানববাহী গভীর সমুদ্রযান ‘জিয়াওলং’-এর (Jiaolong) এই পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান, যন্ত্রপাতির ত্রুটি শনাক্ত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২৭ অক্টোবর সিনহুয়া জানায়, সম্প্রতি ফিলিপাইন সাগর অববাহিকায় তিন দফা ডুব পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিরাপদে ফিরে এসেছে জিয়াওলং। এর মধ্যে দুটি ডুব ছিল ৭ হাজার মিটারের বেশি গভীরতায়। সর্বোচ্চ গভীরতা ছিল ৭ হাজার ৫৬ দশমিক ৯ মিটার।

জিয়াওলংয়ের এবারের আধুনিকায়নে দুটি গুরুত্বপূর্ণ এআই ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। প্রথমটি হলো সমুদ্রতল বিশ্লেষণের জন্য বুদ্ধিমান অনুসন্ধানব্যবস্থা। এটি সাবমার্সিবলের ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে সামুদ্রিক প্রাণী ও সমুদ্রতলের বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এআই ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিতে গভীর সমুদ্রের প্রাণী ও সমুদ্রতলের উপাদানের ৮ লাখের বেশি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি পানির নিচে ধারণ করা দৃশ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। শনাক্ত করা বস্তু সম্পর্কে তথ্যের পাশাপাশি সেগুলোর অবস্থান, পর্যবেক্ষণের সময় ও গভীরতাও সংরক্ষণ করতে পারে। কোনো বস্তু ভুলভাবে শনাক্ত হলে গবেষকেরা তা সংশোধন করে মডেলটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।

দ্বিতীয় ব্যবস্থাটি যন্ত্রপাতির ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানে সহায়তা করার জন্য তৈরি। পানির নিচে কোনো যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে এটি সম্ভাব্য ত্রুটির কারণ, সমাধানের পদ্ধতি, আগের ত্রুটির রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি নথি সামনে আনতে পারে। এতে বিশেষ করে প্রপালশন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে চালকেরা সহায়তা পাবেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনেও ব্যবহার করা যেতে পারে। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা সাবমেরিনে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত থাকে। ফলে যন্ত্রপাতির সমস্যা শনাক্ত করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন- জিয়াওলংয়ের এআই ব্যবস্থা সামরিক সাবমেরিনে ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে বলে সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে; বর্তমানে এটি সামরিক লক্ষ্য শনাক্ত করার প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ৭ হাজার মিটার গভীরতায় এআই ব্যবস্থাগুলো ঠিক কতটা গভীরে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা-ও প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ, ৭ হাজার মিটারের বেশি গভীরতায় জিয়াওলংয়ের ডুব পরীক্ষা নিশ্চিত হলেও এআইয়ের প্রতিটি সক্ষমতা ওই গভীরতায় পরীক্ষা করা হয়েছে- এমন দাবি করা যাচ্ছে না।

এদিকে এআই প্রযুক্তির পাশাপাশি জিয়াওলংয়ের বিদ্যুৎ, চলাচল ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে উচ্চ শক্তিঘনত্বের লিথিয়াম ব্যাটারি, চীনে তৈরি কম শব্দের সরাসরি-চালিত প্রপালশন ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং অনুসন্ধানের মান বাড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীনের এই উদ্যোগ গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। একই সঙ্গে বেসামরিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তৈরি প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সামরিক ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।