দক্ষিণ লেবাননে শনিবার (১৫ আগস্ট) ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জুন মাসে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এপি।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-র বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম আনসারে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু ও দুজন নারী রয়েছেন। এছাড়া নাবাতিয়ের কাছে দেইর আল-জাহরানি গ্রামে আরেকটি হামলায় নিহত হন চারজন। দুই হামলায় মোট আহতের সংখ্যা ১৯ জন।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েল দাবি করেছে এই হামলা ছিল হিজবুল্লাহর এক হামলার জবাব, যাতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের সেনাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
এর আগে আলি তাহের রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর ছোঁড়া বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের আঘাতে ইসরায়েলের অভিজাত ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের তিন সেনা গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
লিতানি নদীর উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকাসহ দক্ষিণ লেবাননজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি স্থানে হামলার খবর দিয়েছে এনএনএ। আনসারের পাশের একটি উপত্যকায় চালানো হামলাকে গত দুই মাসের মধ্যে লেবাননের গভীরে চালানো সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাল্টা বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, লেবাননের ওপর এই হামলার ‘যোগ্য জবাব’ দেওয়া হবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম আনসার হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, নিহতদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় দক্ষিণ লেবাননের একাংশ দখলে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি কাঠামো অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া এবং লেবানিজ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা দখলকৃত দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে- যে শর্তকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে এ পর্যন্ত সাত দফা আলোচনা হয়েছে, সর্বশেষ দফা অনুষ্ঠিত হয় রোমে।


