ফেনীর দাগনভূঞায় কাভার্ড ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জোবায়দা আক্তার (৩০) নামে ব্র্যাকের এক ক্রেডিট অফিসার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মনিরুজ্জামান আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে ফেনীর দিকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল কাভার্ড ভ্যানটির মাঝামাঝি অংশে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পেছনে বসা জোবায়দা আক্তার সড়কে পড়ে যান। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের পেছনের চাকার নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জোবায়দা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মোটরসাইকেল চালক মনিরুজ্জামানকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কাভার্ড ভ্যানের চালককে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ব্র্যাকের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, জোবায়দা আক্তার ও মনিরুজ্জামান দুজনই ব্র্যাকের কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার সকালে মাঠপর্যায়ে কাজের উদ্দেশ্যে তারা মোটরসাইকেলে করে বের হন। জোবায়দা আক্তার গত তিন বছর ধরে ব্র্যাকের ‘প্রগতি’ কর্মসূচিতে ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্র্যাক দাগনভূঞা কার্যালয়ের অফিস ম্যানেজার মো. নুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জোবায়দা আক্তারের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জোবায়দা আক্তার ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের কুটিরহাট এলাকার ডাক্তার বাড়ির মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে রেখে গেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও হাসপাতালে ভিড় করেন।
আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ওই এলাকায় যানজট ও যত্রতত্র সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পার্কিংয়ের কারণে সড়কে চলাচলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


