...|...|...

রাজধানী

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৩:২৪
Shares
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রোগীর স্বজন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালান।

স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমা নামের ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালে আনার সময়ই তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করার পর তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের দাবি, মাহিমার মৃত্যুর পর স্বজনরা তার লাশ গাজীপুরে নিয়ে গিয়ে রাতেই দাফন করেন। এরপর রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে ওই ব্যক্তি ও তার সাথে থাকা লোকজন হাসপাতালে অবস্থান নেন। আবুল কালাম আজাদের দাবি, বিকেলে প্রায় ১০০ ব্যক্তি জরুরি বিভাগের সামনে জড়ো হয়ে রোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। তাদের গেট থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করতে বলা হলে তাকে মারধর করা হয়। পরে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তার দাবি, মাহিমা তার চাচাতো বোন। অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহরিয়ার সবুজ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও রাতে অস্ত্রোপচার হয়নি। পরদিন সকালে মাহিমার মৃত্যু হয়। তার দাবি, ঘটনার বিচার চাইতে গেলে উল্টো হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন।

টাকা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে সবুজ বলেন, তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অর্থ চাননি। বরং তার অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।

ঘটনার সময় হাসপাতালে উপস্থিত আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, তিনি শুক্রবার থেকে তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। তার পাশেই ঘটনাটি ঘটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোগী মারা যাওয়ার পর স্বজনরা লাশ নিয়ে চলে যান। পরে রাতে একদল লোক হাসপাতালে এসে টাকা দাবি করে। সন্ধ্যার পর তারা আবার হাসপাতালে এসে কয়েকজনকে মারধর ও ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন।

ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহত কিশোরীর স্বজনদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। একপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলা ও বিলম্বের অভিযোগ তুললেও অন্যপক্ষ অর্থ দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করছে।