জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞার প্রতি নিজেদের বিরোধিতার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছে চীন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে লক্ষ্য করে বলপ্রয়োগমূলক ব্যবস্থা প্রসারিত এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন একটি বিলে স্বাক্ষর করার পর বেইজিং এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল পাসের জবাবে বলেন যে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি না থাকা একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং এবং নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থ রক্ষার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছি। জাতিসংঘের অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা চীন সবসময় করে আসছে এবং তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার অজুহাতে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া তথাকথিত সেকেন্ডারি স্যাংশন বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞারও বিরোধিতা করে।
মুখপাত্র আরও বলেন, চীন সর্বদা সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে অন্যান্য সমস্ত দেশের সাথে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা পরিচালনা করে আসছে। এ ধরনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করেও করা হয় না এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের ব্যহতকরণ বা জবরদস্তির অধীনও নয়।
হোয়াইট হাউসের একটি প্রকাশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার তথাকথিত ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করার পর এই বিবৃতিটি আসে। এই আইনটির মাধ্যমে রাশিয়াকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন ও প্রসারিত করা হয়েছে, পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অবৈধ নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
এই আইনের বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসনকে রুশ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অনুমতি দেওয়া। এছাড়া রুশ জ্বালানি পরিবহনের সাথে জড়িত রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই আইনটি ইরানের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর বলবৎ থাকা সেই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদও বাড়িয়েছে, যেগুলো ২০২৬ সালের শেষের দিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে, গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়, যা এর আগে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে অনুমোদন লাভ করেছিল। এই বিলটির মূল প্রবক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সাথে বিতর্কিত ও অত্যন্ত শক্তিশালী জোট এবং অবিরাম যুদ্ধবাজ নীতির কারণে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সমালোচকদের কাছে ‘মৃত্যুর সওদাগর’ হিসেবে পরিচিত গ্রাহাম চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি হঠাৎ ও সংক্ষিপ্ত অসুস্থতারপর অপ্রত্যাশিতভাবে মারা যান।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও ইরান বরাবরই এ ধরনের বলপ্রয়োগমূলক অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর তীব্র প্রত্যাখ্যান ও প্রতিশোধমূলক জবাব দিয়ে আসছে। এমনকি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সতর্ক করে বলেছে যে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সরাসরি আগ্রাসনের সমতুল্য এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব ও চলমান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।


