...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড, ডিসপ্লেতে দেখানো যাচ্ছে না পুরো সংখ্যা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:২৬ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:২৭
Shares
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড, ডিসপ্লেতে দেখানো যাচ্ছে না পুরো সংখ্যা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কয়েকটি গ্যাস স্টেশনের ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন বোর্ডে পুরো দাম দেখানোর সুযোগ নেই। রাজ্যের অন্তত পাঁচটি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে উঠেছে। ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চারটি সংখ্যা প্রদর্শনের সীমাবদ্ধতার কারণে এর বেশি মূল্য দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।

জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচটি স্টেশনে ডিজেলের দাম ডিসপ্লেতে দেখানোর সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে।

তবে এসব স্টেশনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা শহরের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে একটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণের জন্য গ্যাসবাডি নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৭ দশমিক ৭৬ ডলার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজ্যটিতে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৫৫ সেন্ট। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮১ ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু স্টেশনে ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ফেনারের একটি স্টেশনে সাধারণ পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৯ দশমিক ৬৯ ডলার পর্যন্ত ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি শেভরন স্টেশনে ডিজেল ৮ দশমিক ৮৯ ডলার এবং সাধারণ পেট্রল ৮ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রির খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

অস্বাভাবিক মূল্য নেওয়ার অভিযোগে সান বার্নার্ডিনো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার কয়েকটি স্টেশনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্টেশনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

শুধু ক্যালিফোর্নিয়া নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই ডিজেলের গড় দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য এখন ৫ দশমিক ৮৭ ডলার। এর আগে ২০২২ সালের জুনে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮১ ডলারে উঠেছিল ডিজেলের গড় দাম। অর্থাৎ আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে বর্তমান মূল্য।

এক সপ্তাহের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ সেন্ট। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১ দশমিক ৯৭ ডলার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত। তবে তিনি নির্বাচনের পর তেলের দাম দ্রুত কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি, ভবিষ্যতে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টেও তিনি জ্বালানির দাম দ্রুত কমানো উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।

জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকেও তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মজুত তেলের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল কমে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

তবে এসব পদক্ষেপের পরও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি স্টেশনে ডিজেলের দাম ডিসপ্লের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোয় দেশটির জ্বালানি বাজারের চাপ কতটা তীব্র, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।