ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা আঘাত শুরু করেছে তেহরান। জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ও রয়টার্স। একই সাথে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও ইরানি বাহিনীর নিশানায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং ফরেন পলিসি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আবারও আমাদের ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, এবারে তোমাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। পাল্টা আঘাত আসছে। পালাও!
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। ‘ইরানের সন্তানরা’ এই হামলার জবাব দেবে উল্লেখ করে আইআরজিসি বলেছে, আগ্রাসনকারীকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালির দিকে রকেট নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করা কয়েকটি লঞ্চারকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পদক্ষেপের পর বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে হয়তো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে রবিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফের ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই ইরানের পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


