মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় সংসদ সদস্য লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, তাদের এক কর্মীকে মারধরের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সকালে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যসহ জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা ডা. বেলাল হোসেনের কক্ষে যান। কক্ষটি ফাঁকা ছিল। অথচ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
পরে নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে যান তিনি। সেখানে হাসপাতালের আইডি কার্ডবিহীন একজনকে দেখতে পান। তাকে জিজ্ঞাসা করলে হাসপাতালের স্টাফের একটি আইডি কার্ড দেখান তিনি। ওই আইডি কার্ডটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেখালে সেটি ভুয়া বলে চিহ্নিত করা হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন এক জামায়াত কর্মী। এরপর জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্য ও তার কর্মী-সমর্থকরা ওজোপাডিকো অফিসে যান। সেখানে তাদের বাইরে থেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পার করে দেওয়া হয়।
জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হুছাইন জানান, হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্যই পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য। সেখানে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় উভয়ের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। উভয় দলের নেতারা বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাসপাতাল থেকে যেকোনো মূল্যে দালালমুক্ত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেখানে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা মবের সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো মবের সৃষ্টি হয়নি। জামায়াত নেতা-কর্মীরা আইন নিজের হাতে তুলে নেন। একজনকে মারধর করেন। এ কারণেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতাদের দূরদর্শিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেন তিনি। তবে যেকোনো মূল্যে হাসপাতালে দালালমুক্ত করা হবে বলেও জামায়াতের সাথে একই সুরে কথা বলেন এই নেতা।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাসপাতালে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে সব কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।


