...|...|...

বিশ্ব

চীনা কারখানা বন্ধ ঘোষণা

মিয়ানমারে চাকরি হারাচ্ছেন ৩ হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২৮ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৩
Shares
মিয়ানমারে চাকরি হারাচ্ছেন ৩ হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

এইচঅ্যান্ডএম -এর পোশাক সরবরাহকারী একটি চীনা মালিকানাধীন কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিয়ানমারের ইয়াংগুনে চাকরি হারাতে বসেছেন তিন হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিক। দীর্ঘ ১৩ বছর চালুর পর চলতি মাসের শেষেই কারখানাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদ সংস্থা ইরাবতির তথ্য মতে, ইয়াংগুনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হ্লাইং থারিয়ার টাউনশিপে অবস্থিত ‘তেং হুই মিয়ানমার’ নামের কারখানাটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ক্রেতা এইচঅ্যান্ডএম-এর পক্ষ থেকে অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, সামরিক শাসিত মিয়ানমারকে নিজেদের সরবরাহ চেইন থেকে ধীরে ধীরে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সুইডিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম।

উল্লেখ্য, তেং হুই বর্তমানে ওই পশ্চিমা ইয়াংগুন টাউনশিপে পাঁচটি কারখানা পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে মূলত নারী শ্রমিকরা কাজ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ম্যানেজার জানিয়েছেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান চুক্তি এবং তাদের কাজের বছর অনুযায়ী আইনগত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।

এদিকে, টিকটকের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের নোটিশ দিয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তেং হুই কারখানায় গত ১০ বছর ধরে কর্মরত এক নারী শ্রমিক বলেন, হঠাৎ কারখানা বন্ধের এই সংবাদে আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি।

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা নতুন চাকরি পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান তিনি। টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে তেং হুই-এর ইউনিফর্ম পরা কর্মীদের বিদায়ী বার্তা ট্যাগ করা অবস্থায় দেখা গেছে।

মিয়ানমারের শ্রম আইন অনুযায়ী, চাকরি বাতিলের অন্তত ৩০ দিন আগে শ্রমিকদের নোটিশ দেওয়া এবং কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে এই খাতের পোশাক শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ১০,০০০ কিয়াত (৩ মার্কিন ডলারের কম)।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তীব্র শ্রমিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মিয়ানমারের তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেওয়ায় একের পর এক কারখানা বন্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এরই মধ্যে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর ওপর সামরিক জান্তার অধীনে চলা ব্যাপক শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারকে তাদের সরবরাহ চেইন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তীব্র চাপ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা শ্রমিকদের অধিকার হরণ—যেমন ইউনিয়ন সদস্যদের আটক ও নির্যাতন থেকে শুরু করে জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের মতো বিষয়গুলোর কারণে জান্তা সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আইএলও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের অধীনে এটি সদস্য সরকার, নিয়োগকর্তা এবং ইউনিয়নগুলোকে দেশটির কর্তৃপক্ষকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, মিয়ানমারের পোশাক খাত বয়কট করতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা কেবল জান্তা শাসনের অধীনে থাকা সাধারণ শ্রমিকদের দুর্দশাই আরও বাড়িয়ে তুলছে।