বর্তমান সময়ে যেকোনো খাবার বা রেস্তোরাঁয় যাওয়ার আগে ভ্লগ বা অনলাইন ভিডিও দেখার প্রচলন বেশ বেড়েছে, আর এর প্রভাব রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের ব্যবসার ওপরও পড়ছে। তবে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে মিষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে পোকা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ অর্থ ও আইফোন দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হাবড়ার প্রফুল্লনগরে অবস্থিত ‘শ্রীকৃষ্ণ সুইটস’ নামের একটি মিষ্টির দোকানে যান সহেলি দে সূত্রধর ও তার স্বামী সুব্রত দে নামের এক ভ্লগার দম্পতি। দোকানে বসে খাওয়ার সময় তারা দাবি করেন যে মিষ্টির ভেতরে পোকা রয়েছে। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দোকানদারের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এরপর ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দোকানটির মালিক নয়ন ঘোষের হোয়াটসআপ নম্বরে পোকাযুক্ত মিষ্টির কিছু ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেন ওই দম্পতি। দোকানি নয়ন ঘোষের অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে বারবার ফোন করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এমনকি ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিযুক্তদের বাড়িতে যাওয়ার জন্যও তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
দোকানদারের দাবি, নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে ভ্লগার দম্পতি তাকে জানান যে, যদি তাকে একটি আইফোন এবং নগদ টাকা দেওয়া হয়, তবেই তারা ওই ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলবেন। নয়ন ঘোষ আরও দাবি করেন, ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেই মিষ্টির মধ্যে পোকা ঢুকিয়ে এই পুরো ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তার কারখানায় সম্পূর্ণ আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করা হয় বিধায় মিষ্টিতে পোকা থাকার বিষয়টি অসম্ভব বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হাবড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দোকানি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু করা হয়েছে।


