...|...|...

বিশ্ব

মোদি সরকারের পতন কবে, জানালেন ককরোচ প্রধান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪১ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:১০
Shares
মোদি সরকারের পতন কবে, জানালেন ককরোচ প্রধান

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের পতন নিয়ে বড় ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে। তার দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ক্ষমতা হারাবে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে সরকার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন ডিপকে। বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)-এর বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় ডিপকে বলেন, ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার ভাষায়, মোদি অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়বেন। তবে সরকার পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমেই।

কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে ‘জন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান ডিপকে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

ডিপকের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের তরুণদের বিরুদ্ধে একধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জ্ঞানেশ কুমার কেন সরকারের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

দিল্লির জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা বহন করার ঘটনায় নিজের এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আটক ও গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ডিপকে বলেন, তাঁকে যেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, তিনি আবার ফিরে আসবেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন।

এনডিএ সরকারের সমালোচনা করে ডিপকে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সরকার প্রথমে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, এরপর বিবাহ ও ভালোবাসার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। এখন ভোটাধিকারও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপির এই প্রতিষ্ঠাতা। তার অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতেই এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তার এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।

মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের কথা তুলে ধরে ডিপকে বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষা করা জরুরি। তার দাবি, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর দেশের তরুণসমাজ আবারও নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হতে শুরু করেছে।

তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অভিযোগও আনেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রতিবাদকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তাঁদের গান্ধীবাদী ও আম্বেদকরবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিনের কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, যুব সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে অভিনেতা প্রকাশ রাজের নেতৃত্বে কোচির মেরিন ড্রাইভ থেকে রাজেন্দ্র ময়দান পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

সমাবেশ থেকে ডিপকে আবারও দাবি করেন, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মাধ্যমেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে। তবে এটি তার রাজনৈতিক পূর্বাভাস; নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটারদের রায়ের মাধ্যমে।