জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে (স্থানীয় সময়) জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, রসদবাহী উড়োজাহাজ ও সহায়ক অবকাঠামো মোতায়েন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান সংঘাতে এই ঘাঁটিটি বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একটি A-10 থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমানটির একটি ডানা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আটটি F-15 যুদ্ধবিমান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিতকরণ করেনি।
হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী ৩০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- যা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মজুদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত দেয়।
ইরান এই হামলাটি করে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর। এর আগে ইরান একটি মার্কিন নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে ওয়াশিংটন অভিযোগ করে, যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা জবাবে ইরানের তেল ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালায়। এরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তারা ১৮টি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতে বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে একই ঘাঁটিতে হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা যেকোনো সময় আরও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।


