মানসিক চাপকে অনেক সময় সাময়িক বিষয় মনে হলেও এর প্রভাব শরীরের ওপর বেশ গভীর হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত, ক্লান্তি ও নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ মানসিক চাপ ও চুল পড়ার মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে।
উচ্চমাত্রার মানসিক চাপের সাথে চুল পড়ার তিনটি ধরন বিশেষভাবে সম্পর্কিত। এগুলো হলো টেলোজেন এফ্লুভিয়াম, ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া ও অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা। জেনে নেওয়া যাক-
টেলোজেন এফ্লুভিয়াম
তীব্র মানসিক চাপের সময় মাথার অনেক চুলের ফলিকল একসাথে বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা না গেলেও কয়েক মাস পর হঠাৎ করে বেশি চুল ঝরতে শুরু করতে পারে।
চুল আঁচড়ানো, শ্যাম্পু করা কিংবা গোসলের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়ে যাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি টের পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রেস কমে গেলে ধীরে ধীরে চুল পড়ার সমস্যাও কমে আসে।
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া
মানসিক চাপ বা অস্বস্তিকর আবেগ সামলাতে গিয়ে কারও কারও চুল টেনে তোলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। মাথার চুলের পাশাপাশি ভ্রু বা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও টেনে তোলা হতে পারে।
চুল টেনে তোলার এই প্রবল ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন অভ্যাসকে ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া বলা হয়। উদ্বেগ, একাকীত্ব, একঘেয়েমি কিংবা হতাশার মতো অনুভূতির সময় এ ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে।
অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা
অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটার ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চুলের ফলিকলকে আক্রমণ করে। ফলে মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় হঠাৎ গোল বা প্যাচ আকারে চুল পড়ে যেতে পারে।
এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তীব্র মানসিক চাপও এর সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুধু স্ট্রেসের কারণেই যে অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা হবে, তা নয়।
স্ট্রেস কমলে কি চুল আবার গজায়?
মানসিক চাপের সাথে সম্পর্কিত কিছু ধরনের চুল পড়া সাময়িক হতে পারে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে অনেকের ক্ষেত্রে সময়ের সাথে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসতে পারে। তবে সব ধরনের চুল পড়া শুধু মানসিক চাপের কারণে হয় না।
তাই হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে শুরু করলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল উঠে গেলে বা চুল আঁচড়ানো ও ধোয়ার সময় অস্বাভাবিক পরিমাণে চুল ঝরলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারণ হঠাৎ চুল পড়া কখনো কখনো শরীরের অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা করে চুল পড়ার কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।


